আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে ফের চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতভর সীমান্তে গোলাগুলি ও পাল্টা গোলাবর্ষণের ঘটনায় দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত করেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, পাকিস্তান তোরখাম, চামানসহ সব প্রধান সীমান্তপথ বন্ধ করে দিয়েছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, শনিবার গভীর রাতে আফগান সেনারা কুররম সীমান্তের বেশ কয়েকটি চৌকিতে গুলি চালায়, যা পাকিস্তানের আগের বিমান হামলার ‘প্রতিশোধ’ হিসেবে চালানো হয়েছে বলে জানায় আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। পাল্টা হামলায় পাকিস্তানও ভারী অস্ত্র ও গোলাবর্ষণ করে আফগান সীমান্তের বেশ কিছু পোস্ট ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তোরখাম, চামান, খারলাচি, আঙ্গুর আড্ডা ও গুলাম খান সীমান্তপথগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে পাকিস্তান। এসব পথ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ও পণ্য চলাচল করে।
রোববার সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও কুররম জেলার কিছু স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন,
“আফগানিস্তানের কোনো অংশ থেকে পাকিস্তানে হুমকি নেই।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সংঘর্ষ শুধু সীমান্তে নয়, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। আফগানিস্তানের প্রায় ২,৬০০ কিমি দীর্ঘ সীমান্তজুড়ে এখন নিরাপত্তা জোরদার করেছে পাকিস্তান।

