বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

আজকাল হাঁস-মুরগির পালনের জন্য এক হাজার টাকায় ঘর ভাড়া পাওয়া যায় না — বিল্লাল হোসেন মিয়াজী

আবদুল কাদির,চাঁদপুর প্রতিনিধি

বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে চাঁদপুর শহরের বাইতুল আমিন  জামে মসজিদ চত্বর থেকে কর্মসূচি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।
সমাবেশে শিক্ষকদের দাবীর সাথে সংহতি প্রকাশ করে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের চাঁদপুর জেলা প্রধান উপদেষ্টা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী।
তিনি বলেন, আজকাল হাঁস-মুরগির পালনের জন্য এক হাজার টাকায়ও ঘর ভাড়া পাওয়া যায় না। অথচ আমরা যারা জাতি গঠনের কারিগর, সেই শিক্ষক সমাজ আজও মানবেতর জীবনযাপন করছি। শিক্ষকদের প্রাপ্য সম্মান, ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার মান ধরে রাখা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, সরকার বারবার শিক্ষার মান উন্নয়নের কথা বলছে, কিন্তু শিক্ষকরা যদি ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত থাকেন, তাহলে সেই উন্নয়ন কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আর শিক্ষক সেই মেরুদণ্ডকে শক্ত রাখেন — তাই শিক্ষকদের মর্যাদা রাষ্ট্রীয়ভাবে পুনঃস্থাপন করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন চাঁদপুর জেলা শাখার অন্যতম উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া সংহতি প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষকদের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে তাঁদের দাবি বাস্তবায়ন করা সময়ের দাবি। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন মানে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিনিয়োগ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক রুহুল আমিন, এবং সঞ্চালনা করেন সহ-সভাপতি অধ্যাপক শাহ আলম।
আরও বক্তব্য রাখেন—
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো: হারুন আর-রশিদ,
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ  মাওলানা সগীর হোসেন, চাঁদপুর জেলা ইবতেদায়ী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি গোলাম ফারুক মো. ইয়াহিয়া,
বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ফরিদগঞ্জ পৌর শাখার সভাপতি শাহাদাত হোসেনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে বক্তারা বলেন-  শিক্ষক কল্যান তহবিলের জন্য বিগত ১০% বেতনের টাকা কেটে রাখে। কিন্তু পলাতক প্যাসিবাদের সরকার সেখানের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ফলে আজ অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের তার জমা টাকা দিতে পারছেনা। ফলে নতুন করে প্রতি শিক্ষার্থী প্রতি ১০০টাকা চাঁদা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যা আদায় করতে অভিভাবকদের সাথে জবাব দিহী করতে হচ্ছে। আমাদের দাবী:
1. ৪,৫০০, কোটি টাকা ফিরিয়ে আনুন। লুটেরাদের চিহ্নিত করে বিচার নিশ্চিত করুন।
2. বাড়ী ভাড়া ৫০% করুন।
3. উৎসব ভাতা১০০% করুন।
4. চিকিৎসা ভাতা ১৫০০ টাকা করুন।
5. মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদ্রাসার সহকারী প্রধানদের ৭ম গ্রেড দিন।
6. প্রধাণ ও সুপারদের ৬ষ্ঠ গ্রেড দিন।
7. ইবতেদায়ী শিক্ষাকে জাতীয় করুন।
8.   অনুমতি প্রাপ্ত বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহকে সরকারী প্রাথমিক বৃত্তিপরীক্ষায় অংশগ্রহণ ও শিক্ষা উপবৃত্তির আওতায় আনতে হবে। সর্বপরী শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং দ্রুত শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন