ডেস্ক রিপোর্ট।।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার পর গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও উপত্যকাজুড়ে এখন কেবল ধ্বংস আর শোকের দীর্ঘশ্বাস। নিজ বাসভূমে ফেরা হাজারো ফিলিস্তিনি এখন বিগত দুই বছরে ইসরায়েলি বর্বরতার শিকার হয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া প্রিয়জনদের ‘শেষ চিহ্ন’ খুঁজতে শুরু করেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১১ অক্টোবর) গাজা উপত্যকাজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৩৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এতদিন ধরে ইসরায়েলি বাহিনীর কারণে এসব ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার হওয়া ১৩৫টি মরদেহের মধ্যে ৪৩টি আল-শিফা হাসপাতালে এবং ৬০টি আল-আহলি আরব হাসপাতালে আনা হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো নুসেইরাত, দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনুসের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালেই স্বজন হারানো মানুষের ভিড় বাড়ছে।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ওই দিন ভোররাতে গাজা সিটির দক্ষিণে গাবাউন পরিবারে বোমা হামলায় একই পরিবারের ১৬ জন সদস্য নিহত হন। এছাড়া শেইখ রাদওয়ান এলাকায় একজন এবং খান ইউনুসের কাছে আরও দুজন প্রাণ হারান।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৬৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার আহত হয়েছেন।
ইউনিসেফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ২০ হাজারের বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৪২ হাজারের বেশি শিশু আহত হয়েছে; যাদের মধ্যে অন্তত ২১ হাজার শিশু স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে, শান্তি ফিরলেও ফিলিস্তিনিদের জন্য তা এক ভয়াবহ শোকের বার্তা নিয়ে এসেছে।

