বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

নির্বাচনে নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, অনিয়ম হলে ভোট বন্ধ — সিইসি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে চিহ্নিত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ. এম. এম. নাসির উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, কোনো কেন্দ্রে সামান্য অনিয়ম দেখা দিলেই ভোট বন্ধ করে দেওয়া হবে।

শনিবার চট্টগ্রামে আয়োজিত ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন,

“নির্বাচনের দিন মাঠপর্যায়ে আইন ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে পূর্ণ দায়িত্ব ও ক্ষমতা দেওয়া হবে যেন তারা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচনকালীন সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে জরুরি সেল (Emergency Cell) গঠন করবে নির্বাচন কমিশন। এটি মাঠপর্যায়ের যেকোনো অভিযোগ বা সমস্যার দ্রুত সমাধান করবে।

চট্টগ্রাম জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনে ভোট পরিচালনার জন্য ৪৪ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তার একটি প্যানেল গঠন করা হচ্ছে। এর মধ্যে থাকবেন:

  • ১,৯৫৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার

  • ১২,৬৫৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার

  • ২৫,৩১২ জন পোলিং অফিসার

এছাড়াও ১০% অতিরিক্ত জনবল প্রস্তুত রাখা হবে প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে।

চট্টগ্রামের সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ বলেন,

“সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা সংগ্রহ করছি। প্যানেল গঠনের কাজ পুরোদমে চলছে।”

হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে নতুন ভোটার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে মহানগরে ৫২ হাজার এবং উপজেলায় ২ লাখ ৫২ হাজার।

খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, এখন চট্টগ্রামে মোট ভোটার সংখ্যা ৬৬ লাখ ৬৮ হাজার ৫১৮ জন।

  • পুরুষ: ৩৪,৪৮,৫৪৮ জন

  • নারী: ৩২,১৯,৯১৭ জন

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে চট্টগ্রামে ভোটকেন্দ্র কমে দাঁড়িয়েছে ১,৯৫৯টি, যা গতবারের চেয়ে ৬৪টি কম। একইসঙ্গে বুথ কমেছে ১,০৭৬টি।

ভোটগ্রহণের জন্য চট্টগ্রামে প্রয়োজন ১৪,৬১৫টি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, অথচ বর্তমানে মজুত রয়েছে ১৫,৯৪৪টি—যা চাহিদার তুলনায় ১,৩২৯টি বেশি।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার,অতিরিক্ত সচিব (ইসি সচিবালয়) কে এম আলী নেওয়াজ,বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন,ডিআইজি (চট্টগ্রাম রেঞ্জ) মো. আহসান হাবীব পলাশ,ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন