বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

শিক্ষার্থীদের ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকতে বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট।।

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। হামাসের ইসরায়েলে হামলার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে মঙ্গলবার টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এই আহ্বান জানান।

স্টারমার বলেন, “৭ অক্টোবরের মতো একটি দিনে বিক্ষোভ করা ‘অব্রিটিশ আচরণ’। এটি শুধুই বিতর্ক নয়, বরং কখনো কখনো এই দিনটিকে ইহুদি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।”

লন্ডনের বেশ কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীরা এই দিনটিকে ঘিরে যৌথ বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই ধরনের প্রস্তুতি চলছে ম্যানচেস্টার, গ্লাসগো, এডিনবরো ও ব্রিস্টলেও। তবে এসব আয়োজন যাতে ঘৃণা ছড়ানো বা সহিংসতায় পরিণত না হয়, সেজন্য সরকার কঠোর নজরদারির কথা বলেছে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপত্তা এবং সম্মান নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। ইহুদিদের প্রতি ঘৃণার স্লোগান বা অ্যান্টিসেমিটিজম একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। যুক্তরাজ্য কখনও এই ঘৃণার রাজনীতির পক্ষে থাকবে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, গত কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে, যা দেশটির ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ নেতা কেমি ব্যাডেনক সতর্ক করে বলেন, “যেকোনো বিক্ষোভ যেন ঘৃণার মিছিলে রূপ না নেয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

মাত্র কদিন আগেই ম্যানচেস্টারের একটি সিনাগগে হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় দেশজুড়ে। এরপর থেকেই ব্রিটিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

লন্ডনে গত ৪ অক্টোবর “প্যালেস্টাইন অ্যাকশন” নামের একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে প্রায় ৫০০ জনকে গ্রেফতার করে মেট্রোপলিটন পুলিশ।

উল্লেখযোগ্যভাবে, স্টারমারের সরকার গত মাসেই ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সরকার একদিকে মানবিক সমর্থন জানালেও, অন্যদিকে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়ানো বিক্ষোভের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস দক্ষিণ ইসরায়েলে হামলা চালায়, যাতে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। পাল্টা অভিযানে ইসরায়েল গাজায় যে সামরিক অভিযান শুরু করে, তাতে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন