ভারতের সুপ্রিম কোর্টে নজিরবিহীন এক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৬ অক্টোবর) সকালে আদালতের কার্যক্রম চলাকালে প্রধান বিচারপতি ড. ভূষণ রামকৃষ্ণ গাভাইয়ের দিকে জুতা নিক্ষেপের চেষ্টা করেন এক প্রবীণ ব্যক্তি। তবে আদালতের নিরাপত্তাকর্মীরা তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করে তাকে স্থলে আটক করেন।
ঘটনার সময় বিচারপতি গাভাই পুরোপুরি শান্ত ও স্বাভাবিক আচরণ করেন। তিনি বলেন,
“আমি এমন ঘটনায় প্রভাবিত হওয়ার মতো মানুষ নই। শুনানি চলুক।”
এরপর তিনি বিরতি ছাড়াই আদালতের কার্যক্রম চালিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দিনের প্রথম মামলার শুনানি শুরুর কিছুক্ষণ পর ওই ব্যক্তি হঠাৎ চিৎকার করে বলেন,
“সনাতনের অপমান ভারত সহ্য করবে না!”
এরপরই তিনি নিজের জুতা খুলে প্রধান বিচারপতির দিকে ছুঁড়ে মারেন।
জুতাটি বেঞ্চ পর্যন্ত পৌঁছায়নি। আদালতের নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত অভিযুক্তকে কাবু করে সরিয়ে নেন।
সূত্র জানায়, আটক ব্যক্তি আদালতের ‘প্রক্সিমিটি কার্ড’ বহন করছিলেন, যা সাধারণত আইনজীবী বা কোর্ট স্টাফদের দেওয়া হয়। কার্ডের তথ্য অনুযায়ী তার নাম কিশোর রাকেশ। তবে তিনি আইনজীবী কিনা, বা কী উদ্দেশ্যে এই কাজ করেছেন—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
নিরাপত্তা সংস্থা কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং তার পেছনের রাজনৈতিক বা আদর্শিক প্রেরণা খতিয়ে দেখছে।
আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও স্টাফরা বিচারপতি গাভাইয়ের পেশাদারিত্ব ও সংযমের প্রশংসা করেন।
সিনিয়র আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং বলেন,
“এই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযুক্তের পরিচয়, উদ্দেশ্য ও আদালতে প্রবেশের পদ্ধতি সম্পর্কে স্বচ্ছতা জরুরি। এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।”
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে খাজুরাহোর এক মন্দিরের বিষ্ণু মূর্তি পুনর্নির্মাণে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে করা এক মামলায় প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেছিলেন,
“যান, দেবতার কাছেই বলুন ব্যবস্থা নিতে।”
এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে তা ধর্ম অবমাননা বলে অভিযোগ তোলেন।
তবে পরে গাভাই স্পষ্ট করে বলেন,
“আমার মন্তব্য ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।”
ঘটনার সময় আদালতে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন,
“সামাজিক মাধ্যমে এখন প্রতিটি বিষয় অতিরঞ্জিত হয়ে ছড়ায়।”
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন,
“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন বেপরোয়া ঘোড়ার মতো হয়ে গেছে—যাকে থামানো কঠিন।”

