ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উদ্দেশ্যে খাদ্য ও ওষুধসহ মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’কে আন্তর্জাতিক জলসীমায় থামিয়ে দেয় ইসরায়েলি নৌবাহিনী। সোমবার গভীর রাতে চালানো অভিযানে অন্তত ১৩টি জাহাজ আটক এবং দুই শতাধিক মানবাধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলায় জাহাজগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে জলকামানসহ সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
ফ্লোটিলায় অংশগ্রহণকারীরা ছিলেন বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের মানবিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ।
মালয়েশিয়া: প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ইসরায়েলের পদক্ষেপকে ‘মানবতার প্রতি চরম অবজ্ঞা’ বলে মন্তব্য করেছেন। ফ্লোটিলায় থাকা ১২ জন মালয়েশীয় নাগরিকের নিরাপদ মুক্তি দাবি করেছেন তিনি।
তুরস্ক: দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে ‘সামরিক ফ্যাসিবাদের প্রকাশ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দ্রুত আটক তুর্কি নাগরিকদের মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
আর্জেন্টিনা: বুয়েন্স আয়ার্সে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা আর্জেন্টাইন আইনপ্রণেতা সেলেস্ট ফিয়েরোসহ আটক কর্মীদের মুক্তির আহ্বান জানান।
আয়ারল্যান্ড: পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস বলেছেন, “মানবিক প্রচেষ্টার ওপর এমন হামলা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি জানিয়েছেন, ফ্লোটিলায় থাকা আইরিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় রয়েছে সরকার।
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট: ফরাসি এমপি এমা ফুরো, যিনি নিজেও একটি জাহাজে ছিলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবরোধ গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও, আয়োজক সংগঠন ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ জানিয়েছে, গাজার অবরোধ ভাঙার এই শান্তিপূর্ণ মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও সক্রিয় সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছে।

