বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

গাজার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হবেন ট্রাম্প!

ডেস্ক রিপোর্ট।।

গাজায় চলমান সংঘাত বন্ধে নতুন এক প্রস্তাবনায় এসেছে নাটকীয় মোড়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ২০ দফা একটি শান্তি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে প্রস্তাবটিতে সমর্থন দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসে সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, হামাস যদি প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ সুগম হবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, হামাসের অস্ত্রসমর্পণ ও গাজার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার পর গঠিত হবে একটি আন্তর্জাতিক অন্তর্বর্তী সরকার — ‘দ্য বোর্ড অব পিস’। ট্রাম্প নিজেই হবেন এ সরকারের প্রধান। তিনি দাবি করেন, এই পদে আসার আহ্বান এসেছে আরব ও ইসরায়েলি পক্ষের কাছ থেকে।

ট্রাম্প বলেন, “গাজার জনগণের জন্য একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়তে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করবো।”

নতুন এ প্রশাসনে অন্যান্য বৈশ্বিক নেতাদের অন্তর্ভুক্তির কথাও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, যিনি অতীতে ইরাক যুদ্ধের জন্য ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন।

শান্তি বোর্ড বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় গাজায় একটি কার্যকর প্রশাসন গঠন করবে। ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্য থেকে বাছাই করা হবে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। পাশাপাশি গঠন করা হবে একটি পেশাদার ও প্রশিক্ষিত পুলিশ বাহিনী, যারা গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ করা হবে। এতে গাজা উপত্যকায় স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত হামাস প্রস্তাবটির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, সশস্ত্র গোষ্ঠীটি প্রস্তাবটি গ্রহণ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবে হামাসের ভূমিকা ও গাজার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন