কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রিফায়াতপুর ইউনিয়নের ঝাউদিয়া গ্রামে স্কুলছাত্রদের মধ্যে পূর্বের একটি বিরোধের জেরে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দুপক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর ঝাউদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র মুন্না (১৫) ও মানিক (১৬)—দুজনই প্রতিবেশী ও পৃথক পরিবারভুক্ত—তাদের মধ্যে সামান্য বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি থানা পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টা চললেও, রোববার বিকেলে হঠাৎ উত্তেজনা চরমে ওঠে।
রবিউল ইসলাম ও গনি মণ্ডলের নেতৃত্বে দুটি পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। লাঠি-সোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়।
ঘটনায় রবিউলপন্থী বজলু সরদার (৫০), রেজাউল (৬৫), সুমন (৪৬), হেলাল (২০), সুন্দরী খাতুন (৬০) এবং গনি পক্ষের আব্দুল মজিদ বাহার (৫০), সুমন হোসেন (২৯), মনিরুল ইসলাম (৪০), আলম হোসেন লিংকন (২২), কাজল (২৭) ও বাদশা (২৭) আহত হন।
বজলু সরদারের মাথায় ২৫টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
সংঘর্ষের পর রাতে ঝাউদিয়া বাজারে অবস্থিত স্থানীয় বিএনপির একটি দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুপক্ষই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হলেও, অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি।
রবিউল ইসলাম বলেন,
“স্কুলের ঘটনার মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। কয়েকজন গুরুতর আহত, একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন।”
অন্যদিকে গনি মণ্ডল বলেন,
“আসলে উল্টো আমাদের লোকজনের ওপর হামলা হয়েছে। সাতজন এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি।”
দৌলতপুর থানার ওসি সোলায়মান শেখ বলেন,
“সংঘর্ষে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। উভয় পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় কেউ অভিযোগ না করায়, এখনো সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি।

