রংপুরের পীরগাছায় ধানক্ষেতে অর্ধগলিত এক যুবকের লাশ উদ্ধারের চার দিন পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বন্ধুর হাতে খুন হন মাসুদ রানা (২২) নামের ওই যুবক। ইয়াবা বিক্রির টাকাকে কেন্দ্র করে ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।
শনিবার সকালে পীরগাছা থানা প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) আসিফা আফরোজ আদরী জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় এবং ধারাবাহিক তদন্তে চারজনকে গ্রেপ্তার করে হত্যাকাণ্ডের জট খুলেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন:
রিয়াদ হাসান রকি (১৯) — হত্যার মূল হোতা,গাউসুল আজম হিরন (২৫) — হত্যায় সহায়তা করেন,মোছা. রনজিনা বেগম (৪০) — রিয়াদের মা,মোছা. লুফা আক্তার (১৮) — রিয়াদের স্ত্রী।
১৪ সেপ্টেম্বর মাসুদ ঢাকা থেকে দাদাবাড়ি (পীরগাছা) আসেন।১৮ সেপ্টেম্বর রাত রিয়াদের বাড়িতে ইয়াবার টাকা নিয়ে ঝগড়া হয়।সেই রাতে: মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে মাসুদকে হত্যা করে রিয়াদ।পরের দিনগুলোতে মরদেহ খাটের নিচে, পরে একটি দোকানে লুকিয়ে রাখা হয়।২১ সেপ্টেম্বর ভোরে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় ধানক্ষেতে।২১ সেপ্টেম্বর দুপুর স্থানীয়রা মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেয়।
প্রথমে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় এটি অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে গণ্য করে পুলিশ। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ভাইরাল হলে মাসুদের পরিচয় নিশ্চিত হয়।
অভিযুক্ত রিয়াদ ও হিরন লাশ শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন স্থানীয় সৈয়দ আলীর উপর, যা তদন্তে ভুল প্রমাণিত হয়।
“আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে,” — বলেন এএসপি আসিফা আফরোজ আদরী।
তিনি আরও জানান,
“রিয়াদের মা ও স্ত্রী হত্যার পর মরদেহ গুমে সহায়তা করেছে বলে স্বীকার করেছে। চারজনই বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।”
চার আসামিকেই রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে,তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছে,নিহত মাসুদের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা ও গুমের মামলা করা হয়েছে।

