নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম ও পরিচয় ভুয়া ভাবে ব্যবহার করে পুলিশে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সম্রাট হাসান তুহিন নামের এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। তার স্ত্রী হোসনা বেগম দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগকারী হোসনা বেগম জানান, সম্রাট হাসান তুহিন তার স্বামী, এবং তারা ২০১২ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তুহিন ২০১৪ সালে পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চাকরির জন্য তুহিন ভুয়া হলফনামা তৈরি করে নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুরুল হকের দৌহিত্র (নাতি) হিসেবে দাবি করেন, যাতে মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিয়ে চাকরি পাওয়া যায়।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, নেত্রকোনার শেখুপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুরুল হক যখন হলফনামা ও ছবি দেখে চমকে ওঠেন, তখন তিনি সরাসরি জানান, “তুহিন আমার কোনো নাতি নয়, আমি তাকে চিনি না। হলফনামার স্বাক্ষরও আমার নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে, তবে মোহনগঞ্জ বা সুনামগঞ্জে তাদের কেউ বিয়ে করেনি। আমার নাম ব্যবহার করে প্রতারণা করা হয়েছে, আমি দোষীর বিচার চাই।”
তুহিনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে—ছুটি না নিয়েই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, ছাত্র-জনতার বিক্ষোভে হামলায় জড়িত থাকা, এমনকি একটি চেক জালিয়াতি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও চাকরিতে বহাল থাকা।
নেত্রকোনা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনি ২০২৩ সালের ৫ জুলাই থেকে ১৫৬ দিন কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া থানার একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে কনস্টেবল তুহিন বলেন, “এটি পারিবারিক বিরোধের কারণে আমার স্ত্রী মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা মনজুরুল হক আমার নানা। আমি নিয়ম মেনেই চাকরিতে যোগ দিয়েছি। নিয়মিত ভেরিফিকেশন হয়, কোনো ভুল থাকলে এতদিনে ধরা পড়ত।”
চেক মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, “একজন প্রতারক আমার নামে মামলা করেছে। অভিযোগ থাকলেই দোষী হয়ে যাই না।”
ময়মনসিংহ দুদক সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। এটি কেন্দ্রীয় অফিসে পাঠানো হবে। প্রাথমিক যাচাই শেষে যদি আমাদের এখতিয়ারভুক্ত হয়, তবে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

