গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান আগ্রাসনের মধ্যেই ইসরায়েলকে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং রয়টার্স-এর খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই অস্ত্র চুক্তির জন্য ইতোমধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন চেয়েছে।
এই সহায়তা প্যাকেজে রয়েছে—
৩০টি অ্যাপাচি এএইচ-৬৪ অ্যাটাক হেলিকপ্টার, যার মূল্য প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার,৩,২৫০টি ইনফ্যান্ট্রি অ্যাসল্ট ভেহিকেল, মূল্য ১.৯ বিলিয়ন ডলার,৭৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সহায়ক সাঁজোয়া যন্ত্রাংশ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ উপকরণ।
এই অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি এবং সিনেট ফরেন রিলেশন্স কমিটি-র চার শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতার কাছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে ইসরায়েলের কাছে বড় ধরনের অস্ত্র সরবরাহ শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ৬৫ হাজার ১৪১ জন, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৫ জন। হতাহতদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু।
এই অবস্থায় নতুন করে ইসরায়েলকে ঘাতক অস্ত্র সরবরাহের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে মানবিক সহায়তার কথা বললেও, অন্যদিকে দখলদার রাষ্ট্রকে যুদ্ধযন্ত্র সরবরাহ করে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে।
সূত্র বলছে, কাতারে হামাস নেতাদের ওপর ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলার ঠিক আগেই কংগ্রেসে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়। হামলার পরও অস্ত্র সহায়তার অনুমোদন চাওয়া অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, অস্ত্র সহায়তার এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধ বন্ধ নয়, বরং আরও উসকে দেবে।
“এই মুহূর্তে অস্ত্র নয়, প্রয়োজন শান্তি ও সহানুভূতির,” বলেছেন এক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক।

