বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

এবার ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে পর্তুগাল, বাড়ছে আন্তর্জাতিক সমর্থন

ডেস্ক রিপোর্ট।।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে পর্তুগাল। আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের একদিন আগে, রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দেশটি এই ঘোষণা দেবে বলে নিশ্চিত করেছে পর্তুগিজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম Correio da Manhã জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো রাষ্ট্রপতি ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য যে, ২০১১ সালেই সংসদে প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিন স্বীকৃতির প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল বামপন্থি দল Left Bloc।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পর্তুগাল আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে। ২১ সেপ্টেম্বর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।”

চলমান গাজা সংঘাত, ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও যুদ্ধের ভয়াবহতার বিষয়গুলো পর্তুগালের এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। চলতি বছরের জুলাইতেই দেশটি জানিয়েছিল, তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনায় রয়েছে।

জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক তদন্তে ইসরায়েলের গাজা আক্রমণকে “গণহত্যার শামিল” বলে অভিহিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত, এবং ১ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পর্তুগালের এই ঘোষণার আগে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর উপদেষ্টা জানিয়েছেন, আন্দোরা, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, সান মারিনো– এসব দেশও একই পথে হাঁটতে যাচ্ছে। নিউইয়র্কে সৌদি আরব-ফ্রান্স বৈঠকে সম্মিলিতভাবে তারা ঘোষণা দিতে পারে বলে জানা গেছে।

এ পর্যন্ত জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা মোট সদস্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ।

পর্তুগালের সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একে “বিপজ্জনক ও বেপরোয়া পদক্ষেপ” বলে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, এই স্বীকৃতি “হামাসকে উৎসাহিত করবে”।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের চরমপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যে কোনো দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলে তারা পশ্চিম তীরে নতুন অবৈধ বসতি গড়ে তুলবে।

লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী লুক ফ্রাইডেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেভিয়ার বেটেল জানিয়েছেন, তারা সংসদে একটি বিল আনছেন যার মাধ্যমে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ তৈরি হবে।

পর্তুগাল সম্প্রতি জাতিসংঘে এমন একটি প্রস্তাবেও ভোট দিয়েছে যাতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে সাধারণ পরিষদে ভিডিও বার্তা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ভিসা প্রত্যাখ্যান করায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে— ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, নাউরু, পলাউ, প্যারাগুয়ে। ৬টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন