বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙতে তিউনিসিয়ার ত্রাণবাহী জাহাজের যাত্রা শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ইসরায়েলি অবরোধে পিষ্ট গাজার মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিউনিসিয়া থেকে প্রথমবারের মতো একটি ত্রাণবাহী জাহাজ রওনা দিয়েছে। রোববার রাজধানী তিউনিসের লা গুলেট বন্দর থেকে জাহাজটি গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।

এই জাহাজটি যোগ দিচ্ছে “গ্লোবাল সমুদ ফ্লোটিলা” নামে একটি বহুজাতিক নৌ-অভিযানে, যা গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধ চ্যালেঞ্জ করতে সংগঠিত হয়েছে।

তিউনিসিয়ার এই জাহাজে রয়েছেন পাঁচজন অধিকারকর্মী, যাদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী মোহাম্মদ আমিন হামজাউই। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগে উত্তর আফ্রিকা থেকে মোট ২৩টি জাহাজ এবং ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও ২২টি জাহাজ অংশ নিচ্ছে।

স্পেন, ইতালি, পাকিস্তান, ভারত, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্ট সদস্য, শিল্পী, চিকিৎসক ও মানবাধিকার কর্মীরাও এই নৌবহরে যোগ দিয়েছেন।

গত এক বছরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও অবরোধের কারণে গাজা একটি মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে—

৬৫,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অবকাঠামো ধ্বংস, চরম খাদ্য সংকট ও অপুষ্টিজনিত রোগে মৃত্যু বাড়ছে, গাজা এখন “বাসযোগ্য নয়” বলে উল্লেখ করছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

এর আগেও গাজার জন্য একাধিক ত্রাণবাহী জাহাজ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ২০১০ সালের মাভি মারমারা অভিযান। তখন ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় বেশ কয়েকজন কর্মী নিহত হয়েছিলেন।

তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারকার প্রচেষ্টা আরও সুসংগঠিত ও আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত। এ বিষয়ে তারা বলেন,
“এই উদ্যোগ শুধু ত্রাণ পাঠানো নয়, এটি গাজাবাসীর প্রতি বিশ্বের ঐক্য ও প্রতিরোধের বার্তা।”

তিউনিসিয়ার এই জাহাজটি কেবলমাত্র খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। একটি আরব ও উত্তর আফ্রিকান দেশ হিসেবে তিউনিসিয়ার সরাসরি অংশগ্রহণকে অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক সংহতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন