গাজার প্রধান শহর গাজা সিটিতে প্রতি ১০ থেকে ১৫ মিনিট অন্তর ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের লাগাতার বোমাবর্ষণে চরম আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। আল-জাজিরার স্থানীয় সংবাদদাতা হানি মাহমুদের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলি বাহিনী গোটা শহরকে কার্যত এক ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ইসরায়েল যে কোনও মূল্যে গাজা সিটি পূর্ণ দখলের পথে এগোচ্ছে। শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘ঘর ছাড়ার’ আহ্বান জানিয়ে ছড়ানো হচ্ছে লিফলেট। ফলে শত শত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিমে পালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অনেকেই বাধ্য হয়ে আবার শহরে ফিরে আসছেন, কারণ দক্ষিণের শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে জায়গা বা খাবার নেই।
শনিবারের হামলায় কেবল গাজা সিটিতেই নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪৯ জন। গাজা সিভিল ডিফেন্স জানায়, দিনভর চলা বিমান হামলায় শহরের ১,০০০-এর বেশি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে জাতিসংঘ পরিচালিত একটি স্কুলও রয়েছে।
আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবু সালমিয়া জানান, গাজা শহর ছেড়ে যাওয়া মানুষজনের অনেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা আশ্রয় না পেয়ে আবার ফিরে আসছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে আরও ৭ জনের, যার মধ্যে রয়েছে শিশু ও বয়স্ক। এখন পর্যন্ত এই কারণে প্রাণ হারিয়েছেন ৪২০ জন, যাদের মধ্যে ১৪৫ জন শিশু।
গাজা সিটিসহ পুরো উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি আক্রমণে এদিনই প্রাণ হারান আরও অন্তত ৬২ জন। অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজারেরও বেশি মানুষ।

