কাতারের রাজধানী দোহায় একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, এমনটাই জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক সূত্র। মঙ্গলবার বিকেলে চালানো এই হামলার লক্ষ্য ছিলেন ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হামলার দায় স্বীকার করলেও তারা কাতারের নাম সরাসরি উল্লেখ করেনি।
আইডিএফ-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “৭ অক্টোবরের হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে সক্রিয় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।”
তবে কাতার থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, “হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ্য করে কাতারের আবাসিক এলাকায় চালানো এ হামলা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন। এটি আমাদের দেশের নাগরিক ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হুমকি।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে একটি বৈঠক চলছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল হামাস নেতাদের মধ্যে। আলজাজিরা জানায়, এই বৈঠকে হামাসের রাজনৈতিক প্রধানদের মধ্যে অন্যতম খালেদ মেশাল উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, খালেদ মেশাল এর আগেও ১৯৯৭ সালে জর্ডানে ইসরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন।
আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কাতারের মাটিতে এমন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কাতার ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে।

