বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

চীনের কূটনৈতিক চালে পরাজিত ভারত? অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনায় মোদির পররাষ্ট্রনীতি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী বাংলা নিউজ চ্যানেলের সম্পাদক অনিকেত চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ভিডিও বিশ্লেষণ ঘিরে ভারতীয় রাজনীতি ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওটিতে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চীনা কূটনীতির কাছে পরাজয়, পররাষ্ট্র নীতির দোলাচল ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

ভিডিওর শুরুতেই অনিকেত প্রশ্ন তোলেন— “চীন-রাশিয়া-পাকিস্তান বৈঠকে মোদি কোথায়?” তিনি দাবি করেন, ভারতের গণমাধ্যম এই অনুপস্থিতি নিয়ে নীরব। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) সম্মেলনে অংশ নিয়ে মোদি দেশে ফিরে এলেও রাশিয়ার পুতিন ও পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ চীনেই থেকে যান, যেখানে তারা পরবর্তীতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

তিনি আরও বলেন, “এই সফরে মোদি যদি সত্যিই চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা চান, তবে সে কূটনীতি কতটা সফল হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।”

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে অনিকেত বলেন, “এই সম্পর্ক এখন নতুন যুগে প্রবেশ করছে।” সিপিইসি প্রকল্প নিয়ে চীন যে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তা ভারতের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

চীনা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছেন, পাকিস্তানকে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা আরও বাড়বে। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের উপস্থিতি বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনিকেত।

অনিকেত বলেন,

“মোদি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি যেন দোলনার মতো— কখনো ট্রাম্প, কখনো জিনপিং, কখনো পুতিন। এমন অস্থিরতায় ভারতের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়।”

তিনি যুক্তি দেন, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ক্রমেই বাড়ছে, যেখানে চীনের সঙ্গে ঘাটতি প্রায় ৯৯ বিলিয়ন ডলার। অপরদিকে, আমেরিকার সঙ্গে ভারসাম্যমূলক বাণিজ্য থাকলেও সাম্প্রতিক দূরত্বে রপ্তানি ৭০-৭৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অনিকেত চট্টোপাধ্যায় বলেন,

“আজকের বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারতের একমাত্র পথ হলো নিরপেক্ষ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। নেহরুর মতো অবস্থান নিয়ে দুনিয়ার নিপীড়িত রাষ্ট্রগুলোর পাশে দাঁড়ানো উচিত।”

তিনি আরও বলেন, ভারতের উচিত প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা রাখা।

অনিকেতের এই মন্তব্য নিয়ে এখন পর্যন্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সরকারি মহল থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া জন্ম দিয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন