ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে আবারও গড়েছে নতুন রেকর্ড। চার মাস ১৮ দিন পর খোলা দানবাক্স থেকে এবার পাওয়া গেছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা নগদ অর্থ, বিপুল স্বর্ণালঙ্কার ও বৈদেশিক মুদ্রা। অনলাইন দান এসেছে আরও ৫ লাখ টাকা। ফলে বর্তমানে মসজিদের ব্যাংক হিসাবে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০৩ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩০ টাকা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় মসজিদের ১৪টি দানবাক্স খোলার মাধ্যমে শুরু হয় টাকা গণনার কাজ, যা চলে দিনভর। মসজিদ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান গণনার তত্ত্বাবধান করেন। এদিন মোট ৩২ বস্তা টাকা সংগ্রহ করা হয়, যা বিগত এপ্রিলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।
এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল দানবাক্স খোলার সময় ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি পাওয়া গিয়েছিল। তখন পর্যন্ত মসজিদের ব্যাংক জমা ছিল প্রায় ৯১ কোটি টাকা।
জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান জানান, “দানবাক্স থেকে প্রাপ্ত অর্থ সম্পূর্ণ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ টাকার সুদ থেকে অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, ধর্মীয় শিক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কাজ করা হয়।”
নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এই মসজিদটিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দান করতে আসেন, অনেকেই বিশ্বাস করেন—এখানে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পাগলা মসজিদকে দেশের অন্যতম আস্থার স্থানে পরিণত করেছে।
এদিকে, মসজিদ পরিচালনা কমিটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিকমানের ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যে এর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

