শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
Logo

দুই মাসেও সন্ধান নেই যুবদল নেতা শামীমের, পরিবার বলছে ‘পরিকল্পিত গুম’

ডেস্ক রিপোর্ট।।

নিখোঁজের দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সন্ধান মেলেনি কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নের যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম শামীমের (৩৬)। গত ২ জুলাই রাতে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজের তিন দিন পর স্থানীয় একটি সেতুর নিচে পাওয়া যায় তার মোটরসাইকেল। তবে এখনও কোনো হদিস নেই এই যুবদল নেতার।

নিখোঁজ শামীম গন্ডা ইউনিয়নের মনকান্দা গ্রামের বাসিন্দা ও ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য। তিনি একই ইউনিয়নের ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং আসন্ন কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন।

শামীমের স্ত্রী নাজমা আক্তার জানান, স্বামী প্রতিপক্ষের করা মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে ছিলেন। ২ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। তিনি বলেন, “আমার স্বামীর জীবন নিয়ে যে হুমকি চলতেছিল, তার প্রমাণ আছে। গ্রামের প্রতিপক্ষরা প্রকাশ্যে বলছে ওরে আর বাঁচতে দিব না। তার মোটরসাইকেল ব্রিজের নিচে পাইছে পুলিশ, কিন্তু মানুষটা নাই। আমার স্বামীরে গুম করা হইছে। আমি ওরে জীবিত বা মৃত ফেরত চাই।”

শামীমের বাবা আক্কাস মিয়া আরও জানান, নিখোঁজের একদিন আগে তাকে সাইফুল ইসলাম ও মোস্তফা কামাল নামের দুই ব্যক্তি অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনে। তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলের গায়েব হয়ে যাওয়ার পেছনেও এদের হাত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, মনকান্দা এম ইউ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। অধ্যক্ষ এ এম এন মহিবুল্লাহর পক্ষ নিয়েছিলেন শামীম, বিপরীতে ছিলেন সাইফুল ইসলাম ও তার অনুসারীরা। এ বিরোধ থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে গত ৮ জুন সংঘর্ষ হয়, যাতে বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ হয় এবং পুলিশি মামলাও হয় উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে।

অধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ বলেন, “সাইফুল ইসলাম আমাদের কাছে ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন। রফিকুল আমাদের পক্ষে কথা বলে এবং টাকা দিতে নিষেধ করে। তার কিছুদিন পরই হঠাৎ নিখোঁজ হয়।”

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, “আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। শামীমকে খুঁজে বের করার ব্যাপারে তারা আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা দ্রুত তার সন্ধান চাই।”

গন্ডা ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের নেতারা বলছেন, “রফিকুল ইসলাম রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তাকে পরিকল্পিতভাবে গুম করা হয়েছে।”

এদিকে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “নিখোঁজের ঘটনায় তদন্ত চলছে। তার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ২৪ আগস্ট সাইফুল ইসলাম নামের একজনকে র‍্যাব গ্রেফতার করেছে। আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।”

নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম ও মোস্তফা কামাল এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। মোস্তফার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন