এক মাসের ‘কৌশলগত বিরতির’ মুখোশ সরিয়ে ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজা সিটিতে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) মতে, তারা “প্রাথমিক সামরিক অভিযান” শুরু করেছে এবং গাজা সিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি “যুদ্ধক্ষেত্র” হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘোষণা শুধু সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটি গাজার লাখো মানুষের জন্য একটি মানবিক বিপর্যয়ের বার্তা।
আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৌশলগত বিরতির আওতায় সীমিত পরিসরে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি থাকলেও এখন ইসরায়েল জানিয়ে দিয়েছে—এখন থেকে আর কোনো মানবিক বিরতি থাকবে না।
প্রশ্ন উঠছে—মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বারবার অনুরোধ এবং আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত কি যুদ্ধনীতির সীমা লঙ্ঘন করছে না?
আইডিএফ-এর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদরি বলেন, “আমরা গাজা সিটিতে অভিযান শুরু করেছি। আমরা শহরের উপকণ্ঠে পূর্ণ শক্তি নিয়ে হামলা করছি।”
গাজা সিটির ৭ লাখের বেশি বাসিন্দা এখন বাস্তুচ্যুত হওয়ার মুখোমুখি। পূর্বাঞ্চলের দিকে মানুষজন পালাতে বাধ্য হচ্ছে, যদিও সেখানেও নিরাপত্তা নেই।
আগস্টের শুরু থেকেই ইসরায়েল গাজা সিটিতে বোমাবর্ষণ চালিয়ে এলেও শুক্রবারের ঘোষণা যুদ্ধকে নতুন এক মাত্রায় নিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে শহরের উপকণ্ঠে ট্যাংক মোতায়েন এবং ৬০ হাজার রিজার্ভ সেনা জড়ো করা হয়েছে—যা বড় ধরণের স্থল অভিযানের পূর্বাভাস দিচ্ছে।
অনেকে বলছেন, এই ঘোষণা শুধুই সামরিক নয়, বরং কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। গাজা সিটি একদিকে প্রতিরোধ আন্দোলনের কেন্দ্র, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সহানুভূতির ফোকাল পয়েন্ট। সেখানে পূর্ণ শক্তিতে হামলা চালিয়ে ইসরায়েল হয়তো আভ্যন্তরীণ সমর্থন পেতে চায়—কিন্তু তার খেসারত দিচ্ছে বেসামরিক জনগণ।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, গাজা সিটিতে চলমান বোমাবর্ষণে মানুষজন বাধ্য হয়ে শহর ছাড়ছে। কিন্তু কোথায় যাবে তারা? সীমান্ত বন্ধ, আশ্রয় নেই, বিদ্যুৎ-পানি-চিকিৎসা—সব কিছুই সঙ্কটাপন্ন।

