ইয়েমেনের আডেন-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম “আল-গাদ” জানিয়েছে,ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাভি ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।হামলাটি রাজধানী সানা থেকে দূরে, একটি গোপন সামরিক বৈঠকের সময় চালানো হয়।
তবে এই হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও এর পেছনের পরিকল্পনাকারীদের পরিচয় নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধুমাত্র হুতি নেতৃত্বকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা নয়, বরং ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ছায়াযুদ্ধের অংশ।
আল-রাহাভি হুতিদের “প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালন করছিলেন, যদিও তাঁর সরকার আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি পায়নি। ইসরায়েলি চ্যানেল ‘কান’ দাবি করেছে, রাহাভি সরাসরি ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদসহ রাজধানী সানার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১০টি পৃথক হামলা চালানো হয়েছে। নিহতদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হুতি নেতা রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইসরায়েল-ইরান প্রতিদ্বন্দ্বিতার সরাসরি প্রতিফলন। হুতিরা ইরান-সমর্থিত হওয়ায়, ইসরায়েলের পক্ষে তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করার এটাই ছিল উপযুক্ত সময়।
এই হামলা কেবল ইয়েমেন নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি নতুন সংঘাত-প্রবণ বাস্তবতার আভাস দিচ্ছে। যেখানে কোনো সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা না করেই, একের পর এক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হচ্ছে। ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে ‘ছায়াযুদ্ধের পরবর্তী অধ্যায়’ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

