প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, সংবিধানে আনুপাতিক পদ্ধতির (PR) নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত না থাকায়, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এই পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয়। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি আইন সংশোধন করা হয়, তাহলে সেই অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করতে প্রস্তুত থাকবে কমিশন।
শনিবার রাজশাহীর লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।
সিইসি বলেন, “আনুপাতিক পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা থাকলেও সংবিধানে তা না থাকায় আমরা এর বাইরে যেতে পারি না। তবে আইন সংশোধন হলে কমিশন তা বাস্তবায়ন করবে।”
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানান, দলটির কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে বিচারপ্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। চূড়ান্ত রায় এলে কমিশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে (রমজানের আগেই) নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান নাসির উদ্দিন। এরইমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণের খসড়াও প্রকাশিত হয়েছে। সীমানা সংক্রান্ত শুনানি রবিবার থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে।
ভোটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যারা অতীতে ভোটকেন্দ্র দখল করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে, এবার তারা সুযোগ পাবে না। কোনো কেন্দ্র দখল হলে সে কেন্দ্রের ভোটই বাতিল ঘোষণা করা হবে।”
নির্বাচনে সহিংসতা মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি এবার স্ট্রাইকিং ফোর্স নয়, সেনাবাহিনী থাকবে মাঠে।
এছাড়া, ৫৭০০ কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং পূর্বে যেসব কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত ছিলেন, তাদের বাদ দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
সবশেষে সিইসি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ নেই। যদি চাপ আসে, আমি পদত্যাগ করবো। কমিশনের স্বাধীনতা এবং নিরপেক্ষতা রক্ষা করাই আমার অঙ্গীকার।”

