সরকারি অর্থ ও সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমসিংহে। শুক্রবার (২২ আগস্ট) দেশটির গোয়েন্দা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বার্তা সংস্থা এএফপিকে।
পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে স্ত্রী মিথ্রী বিক্রমসিংহের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি ব্রিটেন সফরে যান। রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ওই সফরে সরকারি তহবিল ও নিরাপত্তা সুবিধা ব্যবহার করেন— যা ছিল একান্ত ব্যক্তিগত সফর।
সফর শেষে দেশটির ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) তদন্ত করে জানতে পারে, শুধু বিক্রমসিংহে নন, সফরের সব খরচ— এমনকি দেহরক্ষীদের ব্যয়ও — রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে পরিশোধ করা হয়েছিল।
তদন্ত শেষে শুক্রবার তাকে কলম্বো ফোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।
বিক্রমসিংহে আগে দাবি করেছিলেন, তার স্ত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মসূচির সকল ব্যয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন। কিন্তু সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
শ্রীলঙ্কার আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থ ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
গোতাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের পর ২০২২ সালের জুলাইয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন বিক্রমসিংহে। সে সময় শ্রীলঙ্কা ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। আন্তর্জাতিক মহল মনে করে, সংকট মোকাবেলায় বিক্রমসিংহে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
তবে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নতুন নয়।

