শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সাদা পাথর লুটপাটে ইউএনও-ডিসি বদলি, ওসি এখনো বহাল

ডেস্ক রিপোর্ট।।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদা পাথর এলাকায় অবৈধ উত্তোলন ও লুটপাটের ঘটনায় সমালোচনার মুখে অবশেষে পদে রদবদল হয়েছে প্রশাসনে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু নানা অভিযোগের পরও বহাল রয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান।

সাদা পাথর লুটপাটের ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং ওসির ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, লুটপাটের সময় যৌথবাহিনীর অভিযানে পুলিশ অংশ নেয়নি। এমনকি ইউএনও রাতের বেলা সাদা পাথরের পরিস্থিতি দেখতে গেলে পুলিশের সহযোগিতাও পাননি। তিনি বাধ্য হয়ে আনসার সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

জেলা প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সব দোষ জেলা প্রশাসনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ পুলিশসহ অন্য সংস্থাগুলো পুরো সময় নীরব দর্শক ছিল। অভিযানের সময়ও পুলিশ ছিল না।”

সূত্র আরও জানায়, ভোলাগঞ্জ এলাকায় আগে থেকেই অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলছিল। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড ইউএনও ও ওসিকে ‘ম্যানেজ’ করেই করা হতো। তাই সাদা পাথর লুটের পর ইউএনও আজিজুন্নাহার পুলিশের অনুপস্থিতি নিয়ে মুখ খুলতে চাইলেও পরে তা এড়িয়ে যান।

তাকে প্রশ্ন করা হলে প্রথমে বলেন, “পুলিশ সব সময় সহযোগিতা করেছে।” পরে আবার জানতে চাইলে জানান, “ডিসি স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থল দেখতে গিয়েছিলাম, সঙ্গে আনসার ছিল।”

ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, “যখন প্রশাসন চেয়েছে, তখনই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কোনো ঘাটতি ছিল না।” ইউএনওর সাদা পাথর পরিদর্শনের সময় পুলিশের অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও মন্তব্য করেন।

জেলা প্রশাসনের দায়ের করা মামলার আসামিদের বিষয়ে তিনি বলেন, “এগুলো জামিনযোগ্য মামলা। আসামিরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে নেয়।”

ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

সাদা পাথর লুটের পর বুধবার রাতেই জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসন জরুরি বৈঠকে বসে এবং রাত ১২টা থেকে যৌথবাহিনীর নেতৃত্বে অভিযান শুরু হয়। সেনাবাহিনী, আনসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দেখা গেলেও পুলিশের দেখা মেলেনি। এমনকি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনস্থ এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালালেও পুলিশের অনুপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন