ভোটার তালিকায় কারচুপি ও ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ ঘিরে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। রাহুলের বক্তব্যকে ‘সংবিধানের অবমাননা’ হিসেবে অভিহিত করে কমিশন তাকে হলফনামা জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে—অথবা ‘ভিত্তিহীন অভিযোগের জন্য’ জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছে।
অন্যদিকে, রাহুল গান্ধী রবিবার (১৭ আগস্ট) বিহার থেকে ‘ভোটার অধিকার যাত্রা’র সূচনা করে ফের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ তোলেন। তার দাবি—ভোটার তালিকা থেকে গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নাম পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এতে ভোটের মাধ্যমে জনতার সিদ্ধান্ত বিকৃত হচ্ছে।
এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, “রাহুল গান্ধী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কমিশনকে নিশানা করছেন। যিনি ভোট জালিয়াতির মতো শব্দ ব্যবহার করছেন, তিনিই আসলে সংবিধান অবমাননা করছেন।”
কমিশনের দাবি—রাহুল যদি মহাদেবপুরা কেন্দ্রের (বেঙ্গালুরু) ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ তুলতে চান, তবে আইন অনুযায়ী তাকে সেখানে ‘শপথপত্রসহ হলফনামা’ দিতে হবে। নইলে অভিযোগ তদন্ত করা হবে না।
৭ আগস্ট এক আলোচিত সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী ব্যাঙ্গালুরুর একটি কেন্দ্রে এক লাখেরও বেশি ভোটার তালিকায় গরমিলের তথ্য তুলে ধরেন। দাবি করেন, মাত্র ১০ বর্গফুটের ঘরে ৮০ জনের নাম দেওয়া হয়েছে, বহু বৈধ ভোটার বাদ পড়েছেন, আবার ভুয়া ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “দেশজুড়ে অন্তত ৩০টি আসনে এমনটা হলে প্রকৃত ফলাফল বদলে যেত, এবং মোদী সরকার তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতো না।”
রাহুল গান্ধী বর্তমানে বিহারে ১৩০০ কিলোমিটারের ভোট-বিষয়ক জনসংযোগ যাত্রায় আছেন। আগামী ১৬ দিনে তিনি ২০টি জেলা সফর করবেন। যাত্রার সূচনাতেই ঘোষণা দেন, “ভোট চুরি আর চলবে না। গরিব মানুষের একমাত্র অধিকার—ভোটাধিকার—we will protect it at any cost।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিরোধ এখন শুধু রাজনৈতিক নয়—এটি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। একদিকে বিরোধীদের ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ আন্দোলন, অন্যদিকে কমিশনের নিরপেক্ষতার দাবির মাঝে আটকে পড়ছে সাধারণ ভোটার।

