রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর সর্বশেষ প্রচেষ্টায় কিছু অগ্রগতি হলেও, সামনে আরও কঠিন সিদ্ধান্ত অপেক্ষা করছে। আলাস্কায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ওপর চাপ বাড়ছে একটি ‘স্থায়ী শান্তিচুক্তি’তে সম্মতি দেওয়ার জন্য।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের পর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “যুদ্ধবিরতি নয়, প্রয়োজন একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তি।” তার মতে, যুদ্ধ সাময়িক বন্ধ নয়, চূড়ান্ত সমাপ্তির পথেই যেতে হবে।
বৈঠকের পর ট্রাম্প ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ফোন করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে জেলেনস্কি দ্রুত এক বিবৃতিতে জানান, বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং রাশিয়ায় অপহৃত ইউক্রেনীয় শিশুদের মুক্তি ছাড়া কোনো সমাধান টেকসই হবে না।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, “যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ফলে শান্তির পথ জটিল হয়ে উঠছে।”
রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে—ইউক্রেন যদি দোনেৎস্ক থেকে সেনা সরিয়ে নেয়, তবে তারা জাপোরিঝিয়া ও খেরাসনের সম্মুখভাগে যুদ্ধ স্থগিত করতে পারে। তবে কিয়েভের অবস্থান এখনও স্পষ্ট: ডনবাস কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়।
ফ্রান্স, জার্মানি ও ইউরোপীয় কমিশনের নেতারা বলছেন, যেকোনো চুক্তির আগে জেলেনস্কিকে আলোচনায় সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সীমানা বলপ্রয়োগে পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়, বলে জানান তারা।
কিয়েভজুড়ে দেখা গেছে হতাশার ছাপ। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসা এক প্রবীণ সেনা বলেন, “আমরা আলোচনায় বসতে পারি, কিন্তু আত্মসমর্পণের মতো আলোচনায় নয়।” অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধবিরতির নামে চাপিয়ে দেওয়া শান্তিচুক্তি হতে পারে আগ্রাসনের নতুন রূপ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মুহূর্তে ট্রাম্প ও পুতিনের কূটনৈতিক নাট্য মঞ্চে জেলেনস্কি এক কঠিন ভূমিকার মুখোমুখি। পশ্চিমা সমর্থন অব্যাহত থাকলেও, শান্তি ও ভূখণ্ডের সীমানা নিয়ে আপসের চাপ স্পষ্টভাবে বেড়েছে।

