গত কয়েকদিন ধরে তীব্র তাপদাহের কারণে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল একের পর এক দাবানলে ভস্মীভূত হচ্ছে। গ্রিস, স্পেন, তুরস্ক, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হলেও পরিস্থিতি এখনো দৃষ্টিকটু। গতকাল একদিনে গ্রিসে ১৫০-এর বেশি নতুন দাবানল শুরু হয়, যেখানে হাজার হাজার লোককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা এখনো আগুন নিয়ন্ত্রণে কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত।
দাবানলের ধোঁয়ায় স্পেন, আলবেনিয়া ও তুরস্কে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। অনেকেই আহত, গৃহহারা হয়েছে। স্পেনের লিওন প্রদেশ থেকে হাজারো মানুষ বাধ্য হয়ে ছুটি নিয়েছে। মাদ্রিদের কাছাকাছি ট্রেস কান্তোস এলাকায় গতি বায়ুর কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা এক অশ্বারোহী কর্মীর প্রাণ নিয়েছে। স্পেনের সরকার সতর্কবার্তা দিয়েছে, প্রস্তুত থাকতে হবে।
পর্তুগালে তিনটি বড় দাবানল চলছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় এক হাজার অগ্নিনির্বাপক ও বিমান কাজ করছে। মরক্কো থেকেও সহায়তা এসেছে। ইতালিতে গরমের কারণে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোম, মিলান ও ফ্লোরেন্সসহ বেশ কয়েকটি শহরে রেড অ্যালার্ট জারি আছে।
তুরস্কের ইজমির ও চানাক্কাল এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও মন্টিনেগ্রোতে আগুন নেভাতে গিয়ে এক সেনা নিহত হয়েছে। যুক্তরাজ্যে তাপমাত্রা বেড়ে ৩৩ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে, লন্ডনে ঘাসের আগুনে শতাধিক একর পুড়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের গ্রীষ্ম আরও গরম ও শুষ্ক হচ্ছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র দাবানলের কারণ হচ্ছে। ইউরোপের দেশগুলো এখন থেকে গ্রীষ্মকালীন দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও কঠোর প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

