বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

উত্তর প্রদেশে প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ

ডেস্ক রিপোর্ট।।

উত্তর প্রদেশের বালরামপুরে এক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী নারীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগে ফের কাঁপছে দেশ। ঘটনার সময় ও স্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও পুলিশের তৎপরতা ঘিরে, কারণ ঘটনাটি ঘটেছে জেলার শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাসভবনের সন্নিকটে।

সোমবার সন্ধ্যায়, মামার বাড়ি থেকে ফেরার পথে ওই নারীকে দুই যুবক অপহরণ করে এক নির্জন মাঠে নিয়ে যায়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকারও করতে পারেননি।

এক ঘণ্টা পরও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবার খোঁজ শুরু করে এবং অবশেষে বাহাদুরপুর পুলিশ ফাঁড়ির কাছে একটি মাঠে তাকে সন্দেহজনক অবস্থায় খুঁজে পায়। দ্রুত জেলা মহিলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা জানান, তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তবে মানসিকভাবে তিনি ভীষণভাবে আঘাতপ্রাপ্ত।

পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় এলাকার ৩-৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। এমন স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই অবহেলা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

তবে পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার জানান, একটি সক্রিয় ক্যামেরায় ওই নারীকে দৌড়াতে এবং কয়েকজন বাইকারকে দেখা গেছে, যা তদন্তে সহায়ক হয়েছে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, তারা পালানোর সময় এনকাউন্টারে আহত হয় এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধ স্বীকার করেছে।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এক প্রতিবেশী বলেন:

“জেলার বড় কর্মকর্তার বাসার পাশেই যদি এমন নিরাপত্তাহীনতা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”

নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, প্রতিবন্ধী নারীদের প্রতি যৌন সহিংসতা ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি ও নিরাপত্তা প্রোটোকল দরকার, যা এখানে অনুপস্থিত ছিল।

এই ঘটনায় একদিকে যেমন দ্রুত গ্রেফতার ও তদন্ত কার্যক্রম চোখে পড়ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গাফিলতি, প্রযুক্তির ব্যর্থতা এবং সামাজিক অবজ্ঞার প্রতিচ্ছবি আরও গভীরভাবে সামনে আসছে।

বালরামপুরের এই নির্মম ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, নিরাপত্তা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, এটি বাস্তব প্রয়োগের প্রশ্ন। শারীরিকভাবে দুর্বল, প্রান্তিক ও প্রতিবন্ধী নারীরা সমাজে কতটা নিরাপত্তাহীন — তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।

এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কতটা স্বচ্ছতা ও দায়িত্বের সঙ্গে এই মামলাটি তদন্ত করে এবং ভুক্তভোগীর প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন