দীর্ঘ প্রতীক্ষা, তারিখ পরিবর্তনের নানা নাটকীয়তা শেষে অবশেষে আগামী ২০ আগস্ট উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু। গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনকারী এ সেতুর উদ্বোধন ঘিরে দুই জেলার মানুষের মাঝে বইছে উৎসবের আমেজ।
সোমবার রাতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ শামীম বেপারী স্বাক্ষরিত এক চিঠির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী।
তিনি জানান, সেতুর লাইটিং, রঙকরণ ও সংযোগ সড়কের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত দিনে সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
এর আগে কয়েক দফায় উদ্বোধনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়।
প্রথমে গত ২ আগস্ট উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২৫ আগস্ট করা হয়।
সর্বশেষ সোমবার রাতে তারিখ আবার এগিয়ে এনে ২০ আগস্ট চূড়ান্ত করা হয়।
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২১ সালে।
সেতুটি চালু হলে গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের মধ্যে সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে। এতে করে
ঢাকার সঙ্গে সংযোগে ১৩৫ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে,
এবং ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে।
এটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাকে গতিশীল করবে না, বরং উত্তরাঞ্চলের কৃষি, বাণিজ্য ও পর্যটনখাতে বিরাট অবদান রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্পের বিবরণ
-
দৈর্ঘ্য: ১,৪৯০ মিটার
-
প্রস্থ: ৯.৬ মিটার
-
ব্যয়: ৮৮৫ কোটি টাকা
-
নির্মাতা: চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড
-
অর্থায়ন: সৌদি সরকারের সহায়তায়
-
পরিচালনা: স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)
সেতুকে ঘিরে ৮৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মিত হয়েছে, যেখানে ৫৮টি বক্স কালভার্ট ও ৯টি আরসিসি সেতু রয়েছে। এছাড়া নদীভাঙন রোধে সেতুর উভয় পাশে ৩.৫ কিলোমিটার নদীশাসন করা হয়েছে।
সেতুটি কুড়িগ্রামের চিলমারী ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জকে সংযুক্ত করবে। এর মাধ্যমে হরিপুর, বেলকা বাজার, পাঁচপীর, ধর্মপুর, সাদুল্যাপুরসহ ১০টির বেশি বাজার ও মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হবে।

