বন্ধুত্বের ভেতর লুকিয়ে থাকা হিংসা ও অপমানের প্রতিক্রিয়ায় ভয়াবহ পরিণতির শিকার হয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণ। ভারতের গুরগাঁওয়ের একটি স্কুলের শৌচাগার থেকে করণ নামে এক ছাত্রের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ‘চিকন শরীর’ নিয়ে মজা করার জেরেই দুই বন্ধু পরিকল্পিতভাবে করণকে হত্যা করে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বন্ধুত্বপূর্ণ হাস্যরস থেকে। করণ প্রায়ই তার দুই বন্ধুকে শারীরিক গঠনের কারণে ঠাট্টা করতেন। তবে তার এই কটাক্ষ তারা আর মেনে নিতে পারেনি।
২ জুলাই দিবাগত রাতে, পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা স্কুলে প্রবেশ করে এবং করণের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ায়।
একপর্যায়ে এক অভিযুক্ত পাথর দিয়ে করণের মাথায় আঘাত করে এবং অন্যজন কাঁচি দিয়ে আক্রমণ চালায়। পরে তার মরদেহ স্কুলের শৌচাগারে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
গত সোমবার (৫ আগস্ট), স্কুলের এক শিক্ষক দুর্গন্ধ পেয়ে টয়লেটে যান এবং সেখানেই করণের মরদেহ আবিষ্কার করেন। দেহটি ছিল পচনধরা ও রক্তাক্ত।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তিন দিনের মধ্যে দুই অভিযুক্ত আকাশ ও শিব কুমারকে গ্রেপ্তার করে।
গুরগাঁও পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বন্ধুর বারবার ‘চিকন’ বলে কটাক্ষ করায় অভিযুক্তরা রাগে প্রতিশোধ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের স্বীকারোক্তিতেই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত উঠে এসেছে।”
এ হত্যাকাণ্ড সামাজিকভাবে এক ভয়ানক বার্তা দিচ্ছে—ছোট অপমান ও ঠাট্টা কখনো কখনো কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

