গাজা উপত্যকার কেন্দ্রীয় শহর গাজা সিটি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইসরায়েলজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জনবিক্ষোভ। হাজারো বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায় এবং জিম্মিদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি দাবি জানায়।
বিক্ষোভকারীরা সতর্ক করেছেন, সামরিক অভিযান জিম্মিদের ঝুঁকিতে ফেলবে। তেল আবিব, জেরুজালেমসহ বিভিন্ন শহরে জিম্মিদের পরিবার, সাবেক সেনা সদস্য ও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়।
গত শুক্রবার ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহরের “নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ” গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। সেনাবাহিনী জানায়, তারা গাজা সিটি দখলে নিতে প্রস্তুত। তবে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ও নাগরিক মহল থেকে প্রতিবাদ উঠছে।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা সিটি দখলের সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন পায়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শাখা নামে এক নারী বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না। আমাদের প্রিয়জনরা এখনো গাজায় বন্দি। তারা মারা যাচ্ছে, আমরা চাই সবাই ঘরে ফিরে আসুক।”
এক সাবেক সেনা ম্যাক্স ক্রেশ বলেন, “আমি আর এই রাজনৈতিক যুদ্ধে অংশ নিতে পারি না। নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্ত শুধু জিম্মিদের নয়, নিরীহ ফিলিস্তিনিদের জীবনকেও বিপন্ন করছে।”
বিক্ষোভকারীরা জানান, গাজায় এখনও প্রায় ২০ জন জীবিত জিম্মি রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাজা সিটি দখলের মাধ্যমে তাদের জীবন আরও বিপন্ন হবে।
ইসরায়েলের ঘোষণার পরপরই জাতিসংঘ, চীন, তুরস্ক, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বহু দেশ এ পদক্ষেপের কড়া নিন্দা জানায়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক বলেন, “এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।”
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, “নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা একটি গণহত্যা এবং মানবতা বিরোধী অপরাধের ধারাবাহিকতা।”
হামাস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “গাজা সিটি দখল করতে চাইলে ইসরায়েলকে বড় মূল্য দিতে হবে এবং বাকি জিম্মিদের জীবন হারাতে হতে পারে।”
ইসরায়েলের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি জরুরি বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। ১৫ সদস্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা ছাড়া বাকি সদস্যরা এই বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ সংকট ডেকে আনতে পারে। আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”

