বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ট্রাম্পের চাপে এশিয়ার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কাছাকাছি, রাশিয়া-চীন-ভারতের নতুন মেরুকরণ?

ডেস্ক রিপোর্ট।।

বিশ্বরাজনীতিতে নতুন এক শক্তির আবির্ভাবের আভাস মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা বাণিজ্য ও কূটনৈতিক নীতির বিপরীতে এবার এক ছাতার নিচে আসছে তিন পরাশক্তি—রাশিয়া, চীন ও ভারত।

২০০১ সালে চীন-রাশিয়া বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে শুরু হয় এই জোটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। তবে সম্পর্কের ভিত্তি আরও পুরোনো ও গভীর। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক বলয়ের বাইরে থাকার কৌশল থেকেই এই দুই শক্তিধর রাষ্ট্র একে অপরের ঘনিষ্ঠ হয়।

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের সময় চীনের অবস্থানই বোঝায়, এই বন্ধন শুধু কৌশলগত নয়, বরং একে অপরের সংকটেও পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে উঠেছে। একই সময়ে ভারতও—চিরাচরিত রাশিয়া-ভারত মৈত্রীর ধারা অব্যাহত রেখে—বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু এই সম্ভাব্য ত্রিশক্তির ঐক্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা দীর্ঘদিনের ভারত-চীন বৈরিতা। সীমান্ত উত্তেজনা, বাণিজ্য দ্বন্দ্ব ও আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াইয়ে বারবার মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দেশ। তবে এখন মনে হচ্ছে, পাশার দান ঘুরছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের কৌশলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে শুরু করেছে চীন ও ভারত—একসাথে। নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ট্রাম্পের হুমকি বা নিষেধাজ্ঞাকে পাত্তা না দিয়ে এবার মুখোমুখি হতে চলেছে তারা।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অংশ নিতে যাচ্ছেন চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিতব্য সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (SCO) শীর্ষ সম্মেলনে, ৩১ আগস্ট। একই মঞ্চে থাকবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একসঙ্গে এই তিন নেতা উপস্থিত থাকবেন এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ত্রিপাক্ষিক সমন্বয় একটি নতুন কৌশলগত মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। এখন প্রশ্ন, রাশিয়া-চীন-ভারতের এমন ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের সামনে ট্রাম্প প্রশাসন কী নতি স্বীকার করবে, নাকি আরও কঠোর অবস্থান নেবে?

বিশ্ব এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায়।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন