গাজা সিটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চূড়ান্ত পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। এ সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধ আরও জটিল এবং বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশ-বিদেশে শুরু হয়েছে নতুন করে কড়া সমালোচনা।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট মন্ত্রিসভার অনুমোদিত এই পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের দেশেই তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। জিম্মিদের পরিবারের সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতারা বলছেন, এই পদক্ষেপ তাদের প্রিয়জনদের জীবন আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিড বলেছেন, “এটি সম্পূর্ণরূপে সামরিক এবং গোয়েন্দা পরামর্শ উপেক্ষা করা একটি বিপর্যয়কর সিদ্ধান্ত।” তার অভিযোগ, নেতানিয়াহু রাজনৈতিক চাপের কারণে কট্টর ডানপন্থী নেতাদের কথায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের পথে হাঁটছেন।
বর্তমানে ধারণা করা হচ্ছে, গাজা অঞ্চলে প্রায় ৫০ জন ইসরায়েলি জিম্মি রয়েছেন, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত। সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট মতানৈক্য রয়েছে—অভিযান চালালে জিম্মিদের কী পরিণতি হবে তা নিয়ে।
‘হোস্টেজেস ফ্যামিলিস ফোরাম’ এক বিবৃতিতে বলেছে, “গাজা সিটিতে সামরিক অভিযান মানে হলো জিম্মিদের পরিত্যাগ করা।”
একজন স্থানীয় হোটেল মালিক ড্যানি বুকোভস্কি মন্তব্য করেছেন, “এই পদক্ষেপ জিম্মিদের জন্য কার্যত মৃত্যুদণ্ডের সমান।”
ইসরায়েলের এই পদক্ষেপে প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
-
জার্মানি ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইসরায়েলে গাজায় ব্যবহারের উপযোগী সামরিক রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত করবে।
-
যুক্তরাজ্য সরাসরি ইসরায়েলকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
-
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন গাজা সিটিতে সেনা অভিযানে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন।
-
সৌদি আরব বলেছে, তারা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না এবং গাজা দখলের তীব্র সমালোচনা করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে গাজার ৭৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। গাজা সিটি দখলের মাধ্যমে এই সংখ্যা ৮৫ শতাংশে উন্নীত হবে বলে মত দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আমির আভিভি। তিনি বলেন, “গাজা সিটি হচ্ছে হামাসের কেন্দ্রস্থল। এটি দখল মানেই হামাসের পতনের দ্বারপ্রান্ত।”
নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইসরায়েল গাজা নিজের দখলে রাখতে চায় না। বরং অঞ্চলটিকে একটি ‘নিরাপত্তা বাফার জোনে’ পরিণত করে তা আরব রাষ্ট্রগুলোর হাতে তুলে দিতে চায়। তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি বাস্তবায়ন অতি কঠিন এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আরও জটিল করে তুলতে পারে।
গাজার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপটি ২০০৫ সালে ইসরায়েলের স্বেচ্ছা প্রত্যাহার নীতির বিরোধিতা করে, যখন তারা গাজা থেকে হাজার হাজার বসতি স্থাপনকারী এবং সেনা সরিয়ে নেয়। বর্তমানে সীমান্ত, আকাশসীমা ও সাপ্লাই চেইনের নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের হাতে থাকলেও সরাসরি দখল নেই।

