বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে ক্ষুব্ধ জামায়াত, বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ডা. তাহের

ডেস্ক রিপোর্ট।।

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠের পরপরই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত হয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণাপত্র পাঠ শেষে সময় সংবাদকে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “জুলাইয়ের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, এই ঘোষণাপত্রে তার তেমন প্রতিফলন হয়নি।”

ডা. তাহের বলেন,
“ঘোষণাপত্রে বাস্তবায়নের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। কাল থেকেই এটি কার্যকর হবে কি না—এমন কোনো স্পষ্টতা দেওয়া হয়নি।”
তিনি আরও দাবি করেন, জাতি প্রত্যাশা করেছিল যে ‘জুলাই সনদ’ সংবিধানের প্রস্তাবনায় (প্রিয়াম্বল) যুক্ত হবে, কিন্তু সেটাও করা হয়নি।

তাহের বলেন,
“উনারা বলেছেন, আগামী নির্বাচিত সরকার এই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন করবে। তাহলে এই সরকার কী করবে? এই সরকারের তো দায়িত্ব ছিল বাস্তবায়ন শুরু করার। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে হালকাভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঘোষণাপত্র জাতিকে হতাশ করেছে, আমরাও হতাশ।”

এর আগে বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণাপত্রে বলা হয়,

“পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এ ঘোষণাপত্রটি সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে সংযুক্ত করবে।”

এছাড়া ঘোষণাপত্রে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ’দের জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতি এবং আহত, নিখোঁজ ও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার জন্য আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতের মতো অংশীদার রাজনৈতিক দলের এই প্রতিক্রিয়া আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে এটি ইঙ্গিত দেয় যে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে মিত্র দলগুলোর মধ্যেও আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন