বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জুলাই-আগস্ট না হলে,বিএনপি আন্দোলন করে সরকার ফেলে দিতো: মির্জা আব্বাস

ডেস্ক রিপোর্ট।।

আগামী নির্বাচন সামনে রেখে হঠাৎ করে নাটকীয় মোড় নিচ্ছে রাজনীতির মাঠ। সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দৃঢ় সংকল্পের কথা বললেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন মহলের মধ্যে এখন উঠছে একাধিক প্রশ্ন—বিএনপি আদৌ নির্বাচন চায়, নাকি চায় রাজনৈতিক ‘বার্গেইন’ করে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব?

সোমবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে যুবদল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, “নির্বাচন পেছানোর জন্য একটি ‘নাটক’ সাজানো হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, “একজন মেজর চক্রান্ত করছে দেশে অঘটন ঘটাতে।” কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন ‘চক্রান্তের’ অভিযোগ বারবার উঠে এলেও বিএনপির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট তথ্য কখনোই সামনে আসছে না।

রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন—‘সামরিক-বেসামরিক’ একটি গোপন বোঝাপড়ার চেষ্টা চলছে, যেখানে নির্বাচন নয়, বরং অন্তর্বর্তী বা সমঝোতাভিত্তিক সরকারে বিএনপির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশীদারিত্বই এখন মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

“১৭ বছর আন্দোলন, ফল খাচ্ছে অন্যরা”—অভিমান না কৌশল?

মির্জা আব্বাস সভায় আরও বলেন, “১৭ বছর বিএনপি গাছে পানি দিয়েছে, ফল খাচ্ছে অন্যরা।” রাজনৈতিক পর্যালোচকদের মতে, এটি শুধু অভিমানের ভাষা নয়, বরং ইঙ্গিত দিচ্ছে আন্দোলনের ফসল বিএনপির হাতছাড়া হওয়ার আতঙ্ক থেকে উঠে আসা এক কৌশলী বার্তা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার সাদেক বলেন, “বিএনপির এই বক্তব্যে পরোক্ষভাবে আন্দোলনের মালিকানা দাবি করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, আন্দোলনের প্রকৃত চালিকা শক্তি এখন কে? তরুণ প্রজন্মের বিদ্রোহ, ছাত্র আন্দোলন নাকি রাজনৈতিক দলীয় নির্দেশনা?”

‘জুলাই-আগস্ট না হলে সরকার পড়ে যেত’ — বিকল্প ইতিহাসের দাবি

আলোচনায় মির্জা আব্বাস বলেন, “যদি জুলাই-আগস্ট না হতো, বিএনপি আন্দোলন করে সরকার ফেলে দিতো।” এই বক্তব্য রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে ‘বিকল্প ইতিহাস নির্মাণ’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য হতে পারে—নেতৃত্বের ব্যর্থতা ঢেকে জনগণের সমর্থন ধরে রাখা।

অন্যদিকে, একাধিক রাজনৈতিক সূত্র বলছে, বিএনপির কিছু অংশ জুলাই-আগস্টের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সক্রিয় না হয়ে অপেক্ষা করেছে নতুন সম্ভাবনার, যার ফলে তাদের মধ্যে বিভক্তির রেখাও স্পষ্ট হয়েছে।

নতুন বার্তা: দীর্ঘ মেয়াদি অবস্থান

“আরও ১৭ বছর লাগলে আন্দোলন চলবে”—এই ঘোষণা বিএনপির ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের’ প্রস্তুতির অংশ, না কি ব্যর্থ কৌশলের পূর্বপ্রস্তুতি, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্দোলন দীর্ঘ হলে নেতৃত্ব ও সংগঠন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষত যখন সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

চিত্রের উল্টো পিঠ

সরকারি মহল থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, “বিএনপি আন্দোলনকে নির্বাচনী দাবিতে সীমাবদ্ধ রাখলেও তার আসল উদ্দেশ্য এখন একটি নিরাপদ রাজনৈতিক সমঝোতা।”

এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির বাইরে থাকা অনেক নেতা এখনো প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও অভ্যন্তরে তারা ভিন্ন পথ অনুসরণের পক্ষে—যেখানে আন্তর্জাতিক সহায়তা, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় একটি রূপরেখা তৈরি করা হবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন