শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
Logo

তিস্তার পানি কমলেও দুর্ভোগে লালমনিরহাটের হাজারো পরিবার

ডেস্ক রিপোর্ট।।

কয়েকদিনের টানা বাড়তির পর তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে এসেছে। সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি রেকর্ড করা হয়েছে ৫২.১০ মিটার, যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে। তবে এতে দুর্ভোগ কমেনি প্লাবিত এলাকার মানুষের।

এর আগে রোববার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি ছিল বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপরে। ভারতের উজানে ভারী বর্ষণের প্রভাবে হঠাৎ পানির প্রবাহ বেড়ে যায়, যার ফলে রাতেই তীরবর্তী চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

জেলায় পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বহু গ্রাম পানির নিচে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দহগ্রাম, গড্ডিমারী, মহিষখোচা, শৈইলমারী, ফলিমারী, কুলাঘাট, বড়বাড়ীসহ অন্তত ২০টি ইউনিয়ন। তলিয়ে গেছে আমন ধান, শাকসবজির মাঠ, পুকুর ও বসতবাড়ি।

পানির উচ্চতা বাড়ায় অনেক এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মানুষ চলাচল করছে নৌকা ও ভেলায়। শিশুদের স্কুল যাওয়া বন্ধ, রান্নাবান্নাও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন,

“রাতে পানি ঢুকে গেছে। গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে আছি। কেউ দেখতে আসেনি। আমরা কি কখনও স্থায়ী সমাধান পাবো না?”

আরেক বাসিন্দা নুর আলম জানান,

“সারারাত পানি উঠেছে। কোন জনপ্রতিনিধি আসেননি। শুধু তালিকা নিচ্ছে, ত্রাণ দিচ্ছে না কেউ।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ডালিয়া ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তবে পানি আরও বাড়বে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

পাউবো লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুণীল কুমার বলেন,

“তিস্তার পানি এখন বিপৎসীমার নিচে। তবে নিম্নাঞ্চলে সতর্কতা জারি আছে। পরিস্থিতি আরও দুই-তিন দিন স্থায়ী হতে পারে।”

এদিকে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচে ও ধরলার শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ১৩২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন