বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

ছাত্রলীগের নামে নির্যাতনে অংশ নিত শিবির সংশ্লিষ্টরা — ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ আবদুল কাদেরের

ডেস্ক রিপোর্ট।।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক ও গুপ্ত সংশ্লিষ্টতাযুক্ত সদস্যরা ছাত্রলীগের পরিচয়ে হলভিত্তিক নির্যাতন ও দমননীতিতে সক্রিয় ছিলেন—এমন বিস্ফোরক দাবি করেছেন গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আবদুল কাদের।

রবিবার রাতে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত অনেকেই ক্ষমতাসীনদের ছত্রচ্ছায়ায় ‘আইডেনটিটি ক্রাইসিস’ কাটাতে ছাত্রলীগে যোগ দেয় এবং ছাত্রলীগের ভেতরে থেকেও উগ্রতা প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে চায়।”

আবদুল কাদেরের দাবি, এমন কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতার অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হলেও তাদের নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড ছিল একই রকম।

পোস্টে উল্লিখিত কিছু নাম:

  1. মাজেদুর রহমান: এক সময়ের শিবির সংশ্লিষ্ট, পরবর্তীতে ভয়ংকর নিপীড়ক হয়ে ওঠেন বিজয় একাত্তর হলে।

  2. মুসাদ্দিক বিল্লাহ: ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক হলেও পূর্বে শিবিরের সাথি ছিলেন বলে দাবি।

  3. ইলিয়াস হোসাইন ও আফজালুন নাঈম: ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে গেস্টরুম নির্যাতনে জড়িত ছিলেন, এখন আবার শিবিরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত।

  4. হাসান সাঈদী: শিবির সংশ্লিষ্টতার কারণে পদ না পেলেও পরে নাম পাল্টে পদ গ্রহণ, অপহরণসহ একাধিক ঘটনায় অভিযুক্ত।

আবদুল কাদেরের অভিযোগের বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম বলেন, “কাদেরের সঙ্গে এসব বিষয়ে আমার কোনো কথা হয়নি। তিনি যেসব লিখেছেন, তা সত্য নয়।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ছাত্র রাজনীতির চেহারায় পরিবর্তন আসে। আবদুল কাদের দাবি করেন, এই সময়েই হল-ভিত্তিক ব্যাচ প্রতিনিধি ও শৃঙ্খলা কমিটি নির্বাচনে শিবির পরিকল্পিতভাবে নিজেদের লোকদের বসায়, যারা পরবর্তীতে ছাত্রলীগের হয়ে নানামুখী দমন-নিপীড়নের পরিকল্পনায় যুক্ত হয়।

আবদুল কাদের প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি শিবিরের কেউ ছাত্রলীগের হয়ে অপরাধে যুক্ত না হয়ে থাকে, তবে তারা বিগত এক যুগের হল ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি প্রকাশে ভয় পাচ্ছে কেন?”

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন