বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে কমানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে একে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি বলা হলেও রাজনৈতিক দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে— এ ছাড়ের পেছনে ঢাকার পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে কী মূল্য দিতে হয়েছে?
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিরোধী দলের নেতারা শুল্ক হ্রাসকে স্বাগত জানালেও চুক্তির গোপন শর্ত বা দফা-দফার বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন।
এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,
“এই শুল্ক হ্রাস দেশের জন্য ভালো খবর। অন্তর্বর্তী সরকারকে এ জন্য ধন্যবাদ জানাই। তবে জানাতে চাই, এর বিনিময়ে দেশের স্বার্থ যেন বিকিয়ে না দেওয়া হয়।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন,
“২০ শতাংশ শুল্কে আমরা প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকছি। তবে আমরা এখনো জানি না, এর জন্য কী শর্ত দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। এটি তো কোনো একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নয়।”
তিনি আরও বলেন, “শুল্ক ছাড়ের পেছনে যদি বিমান কেনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি জড়িত থাকে, তবে তা অবশ্যই জাতির সামনে আনা উচিত।”
জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন,
“যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা ও বাংলাদেশ সরকারের কার্যকর উদ্যোগে শুল্ক কমানো সম্ভব হয়েছে। এজন্য ড. ইউনূসের সরকারকে ধন্যবাদ।”
তবে অনেকেই তার পোস্টে প্রশ্ন করেছেন— “এর বিনিময়ে কী হারানো হলো?” আমির জবাবে বলেন,
“সরকারের উচিত হবে চুক্তির বিষয়গুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করা। জনগণের কাছে সব কিছু স্পষ্ট হওয়া দরকার।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসেন বলেন,
“শুল্ক কমার ফলে পোশাক খাত ধসে পড়ার আশঙ্কা এড়ানো গেছে। এটি অর্থনৈতিকভাবে স্বস্তির বিষয়। তবে আমরা চাই, এ অর্জনের পেছনের কূটনৈতিক কৌশলগুলো স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হোক।”
অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছে, শুল্ক কমানো স্বস্তির হলেও এর সঙ্গে জড়িত চুক্তি ও প্রতিশ্রুতিগুলো জনস্বার্থে প্রকাশ করা জরুরি, বিশেষ করে যদি তা কোনও অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক ছাড়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ২০২৫ সালের প্রথমদিকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৫% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে। তখন থেকেই পোশাক শিল্পসহ রপ্তানিনির্ভর খাতগুলো চাপের মধ্যে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার পর শুল্কহার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা আসে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।

