গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান ওরফে রিয়াদকে নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রাজনৈতিক বিতর্ক। প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সামি দাবি করেছেন, রিয়াদ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ‘শেল্টারে’ ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে জুলকারনাইন সায়ের বলেন, “রিয়াদ যে আপনার শেল্টারে ছিল, সেটা আমি জানতাম।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, নাহিদ ইসলাম ও তার পরিবারের সঙ্গে রিয়াদের ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং সেই পরিচয়ের সুবাদেই রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন অভিযুক্ত এই যুবক।
জুলকারনাইন তার স্ট্যাটাসে এনসিপি ও সংশ্লিষ্ট ছাত্র আন্দোলন নিয়ে পাঁচটি প্রশ্ন তোলেন:
-
ছাত্রশক্তির ঢাবিতে লোকবল কতটুকু ছিল বিপ্লবের আগে?
-
তারা কতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত ছিল?
-
নাহিদ ইসলাম আগে থেকেই সংগঠকদের চিনতেন কি না?
-
ছাত্রশক্তির কী আদৌ সংগঠনিক কাঠামো ছিল?
-
সাদিক কায়েমের অবদান জাতিকে জানাতেন কি, যদি সাংবাদিকরা না বলতেন?
এর আগে, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, ২ আগস্ট রাতে জুলকারনাইন ও তার সহযোগীরা ‘সামরিক ক্যু’ করার চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকতে হবে, সেনা বা সামরিক সমর্থিত কোনো গ্রুপের হাতে নয়।”
নাহিদ আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রশক্তির ভেতরে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে এবং একাধিক সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মীকে ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এদিকে, চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেফতার রিয়াদের বিরুদ্ধে তদন্তে নতুন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। তার বাসা থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩ লাখ নগদ টাকা, কোটি টাকার চেক ও এফডিআরের নথি। চেকগুলো আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষরিত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, “রিয়াদের একাধিক ভাড়া বাসার সন্ধান পেয়েছি। তদন্তে তার রাজনৈতিক যোগাযোগও গুরুত্ব পাচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ঘটনার মাধ্যমে রাজনৈতিক আন্দোলনের ছায়ায় অপরাধীদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ছাত্র রাজনীতির ব্যানারে চাঁদাবাজি, সহিংসতা ও ক্ষমতা দখলের প্রবণতা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য হুমকি বলেও সতর্ক করছেন তারা।

