বিশ্ব রাজনীতির ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও)-এর সাম্প্রতিক সম্মেলনে। বৈঠকে অংশ নেওয়া সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অন্যতম ইরান তাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে—এই সংস্থাকে তারা এখন কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং এক সম্ভাব্য ‘বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো’ হিসেবে বিবেচনা করছে, যার মাধ্যমে পশ্চিমা আধিপত্যের মোকাবিলা করা সম্ভব।
সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) এই মধ্য-জুলাই সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি একটি শক্তিশালী বক্তব্যে পশ্চিমা হস্তক্ষেপ, একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
তিনি প্রস্তাব করেন—
-
বাহ্যিক আক্রমণ ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় যৌথ নিরাপত্তা সংস্থা গঠন
-
নাশকতামূলক তৎপরতা পর্যবেক্ষণে স্থায়ী সমন্বয় কেন্দ্র
-
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সুরক্ষা কাঠামো
-
এবং সাংস্কৃতিক ও তথ্য নিরাপত্তা জোরদারে গ্লোবাল সহযোগিতা
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এভাবেই আসলে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাকে ‘ন্যাটোর বিকল্প’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। চীন ও রাশিয়ার সমর্থন থাকলে এমন কৌশল বাস্তবায়ন অসম্ভব নয় বলেও মনে করছেন অনেকে।
এদিকে, ইইউ ইতোমধ্যেই নতুন করে আটজন ইরানি নাগরিক ও একটি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের দাবি—ইরান অভ্যন্তরীণভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এমন কৌশল পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য নতুন ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, এশিয়া এবং ইউরেশিয়ার বহু রাষ্ট্রই বর্তমানে একতরফা নিয়ন্ত্রণ ও জবরদস্তিমূলক কূটনীতির বাইরে বিকল্প জোট খুঁজছে।
বিশ্ব রাজনীতির এই নতুন পটপরিবর্তন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে—ন্যাটোর একক আধিপত্যের যুগ কি তাহলে ধীরে ধীরে শেষের দিকে এগোচ্ছে?

