ফিলিস্তিন সংকটের সমাধানে দ্বি-রাষ্ট্রীয় পথকেই একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান হিসেবে দেখছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি রাশিয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
শুক্রবার (২৫ জুলাই) মস্কোয় সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
“ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব নয়। আমরা সবসময় দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে ছিলাম।”
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, রাশিয়া ১৯৮৮ সালেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার ঘোষণাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
পেসকভের ভাষায়, “শান্তি কেবল তখনই সম্ভব, যখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গৃহীত প্রস্তাবনাগুলো অনুসরণ করা হবে।” উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ইতোমধ্যে পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজায় ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে একাধিক প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
রাশিয়ার অবস্থানের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরেও চাপ বাড়ছে। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেশটির ২২০ জন এমপি প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার-এর কাছে একটি যৌথ চিঠি দিয়েছেন।
এই এমপিদের বড় একটি অংশ লেবার পার্টির, যারাই বর্তমানে ব্রিটেনে ক্ষমতায় রয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে:
“ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে একটি শক্তিশালী বার্তা, যা শান্তিপূর্ণ দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”
সম্প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ফ্রান্স আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস-এর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর।
স্টারমার এক বিবৃতিতে বলেন,
“ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে হলে তা একটি বিস্তৃত কৌশলের অংশ হতে হবে, যার লক্ষ্য হবে টেকসই দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান।”
রাশিয়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, পশ্চিমা কূটনীতির নতুন মোড় গাজা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

