সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অস্থিরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে খেলাফত মজলিস সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছে। দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিকেলে ঢাকার পুরানা পল্টনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ‘ঐকমত্যের ভিত্তিতে অবিলম্বে জুলাই সনদ’ ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ এবং পরিচালনা করেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
বৈঠকে নেতারা অভিযোগ করেন, গোপালগঞ্জের সন্ত্রাসী হামলা এবং উত্তরা বিমান দুর্ঘটনার মতো বড় বড় ঘটনায় সরকার ও প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা বলেন,
“প্রশাসনের নাকের ডগায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা এসব পরিস্থিতির অপব্যবহার করছে।”
নেতারা আরও বলেন, জাতীয় সংকটের সময়েও সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দুর্বল সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যস্ত। এইচএসসি পরীক্ষার স্থগিত ঘোষণা মধ্যরাতে না দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই দেওয়া যেত, যা শিক্ষার্থীদের জন্য আরও মানবিক হতো।
বৈঠকে আরও দাবি জানানো হয়, বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয় স্থাপনের অনুমোদন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। দলটির দাবি, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করবে।
বৈঠকে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক সিরাজুল হক, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক আবদুল জলিল, প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, এবং আরও অনেক কেন্দ্রীয় ও শীর্ষস্থানীয় নেতা।
‘জুলাই সনদ’ ঘোষণার দাবি বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে একটি নতুন মোড় তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খেলাফত মজলিসের অবস্থান স্পষ্ট—তারা অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আস্থা হারিয়েছে এবং বিকল্প জাতীয় রূপরেখার দাবি তুলেছে।

