যুক্তরাষ্ট্র গোপনে যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে বলে দাবি করেছে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র। ফাঁস হওয়া গোপন নথির বরাতে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডিক্লাসিফাইড ইউকে এবং পর্যবেক্ষণ সংস্থা নিউকওয়াচ ইউকে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, চলতি মাসের ১৭ তারিখ যুক্তরাষ্ট্রের একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহন বিমান যুক্তরাজ্যের সাফোকে অবস্থিত আরএএফ লেকেনহিথ ঘাঁটিতে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ২০টি বি৬১-১২ পারমাণবিক বোমা পরিবহন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে—যেগুলোর ধ্বংসক্ষমতা হিরোশিমায় ব্যবহৃত বোমার তুলনায় তিনগুণ বেশি।
নিউকওয়াচ ইউকে’র দাবি, বিমানটি ওয়াশিংটনের লুইস-ম্যাকচোর্ড ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে নিউ মেক্সিকোর কির্টল্যান্ড ঘাঁটিতে থেমেছিল—যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষণাগার ও রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
রাতের বেলায় অতিগোপনীয় এই মিশনে অংশ নেয় দুটি ট্যাঙ্কার বিমান এবং আরও একটি সি-১৭ বিমানে আনা হয় পারমাণবিক জরুরি সরঞ্জাম। অবতরণের পর অস্ত্রগুলো ‘ভিক্টর র্যাম্প’ নামের নিরাপত্তা জোনে রাখা হয় এবং সেখান থেকে বিশেষায়িত সরঞ্জামের সাহায্যে নিরাপদ শেল্টারে স্থানান্তর করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদক্ষেপ পশ্চিমা নিরাপত্তা নীতির অদৃশ্য রূপ ও কৌশলের প্রতিফলন। যদিও ব্রিটিশ সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্ত্রগুলোর ওপর যুক্তরাজ্যের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না; একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ থাকবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে পারমাণবিক উত্তেজনা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

