জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত কর্মসূচিতে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।
বজলুর রশীদ বলেন, “সরকার এনসিপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অস্বাভাবিক নিরাপত্তা মোতায়েন করছে। এতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, যা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি সরকারের পক্ষপাতিত্বের ইঙ্গিত দেয়।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন একটি দলের সভা-সমাবেশ করতে এত নিরাপত্তা বাহিনী লাগবে? অন্য দলগুলো কি রাষ্ট্রের বাইরে?”
এসময় তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকৌশলেরও সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, “এই সরকার কোনো নির্বাচিত সরকার নয়। জনগণের আন্দোলন ও চাপের মুখে পড়লেই আমাদের ডাকা হয়, ততদিন আমাদের কথা শোনা হয় না।”
বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও আলোচনা হয় বলে বাসদ নেতা জানান।
এদিন তিনি মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের স্বীকৃতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “কেন বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি কেবল সেনাবাহিনীর সদস্যদেরই দেওয়া হয়েছে? অনেক সিভিলিয়ানও বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাদের স্বীকৃতি কোথায়?”
বজলুর রশীদের এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, তার মন্তব্য মুক্তিযুদ্ধের স্বীকৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ না করেই পুরনো দাবিগুলো পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা হতে পারে।

