স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে পদত্যাগ দাবি করলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার চাঁদপুরে এক পথসভায় দলটির মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ সরাসরি বলেন, “ড. ইউনূসের স্বজনপ্রীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ হচ্ছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। তাকে শুধু পদত্যাগ করলেই হবে না, বেতন-ভাতাও ফেরত দিতে হবে।”
চাঁদপুর শহরে কর্মসূচির শুরুটা ছিল আবেগঘন। সার্কিট হাউসে ‘জুলাই হত্যাকাণ্ডে’ শহীদদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কান্নায় ভেঙে পড়া স্বজনদের দৃশ্য রাজনীতিকে রূপ দেয় মানবিকতায়। এরপর শুরু হয় শোক র্যালি ও প্রতিবাদ-ভিত্তিক পদযাত্রা।
দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, “শহীদদের মায়ের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, কিন্তু এখনও নেই কোনো দৃশ্যমান বিচার। খুনি হাসিনাসহ সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতেই হবে। সরকার যেন জুলাই রায় কার্যকর না করে অন্য কিছু ভাবার দুঃসাহস না করে।”
তিনি আরও বলেন, “শুধু জুলাই নয়, এই আন্দোলন হচ্ছে দেশের ভেঙে পড়া ন্যায়ের ভিত পুনর্গঠনের প্রথম ধাপ।”
পথসভায় নেতারা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির স্পষ্ট বার্তা দেন। নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “আমরা আর ধৈর্য ধরছি না। সমঝোতার নামে শাসকচক্র যদি অপরাধ ঢাকতে চায়, তাহলে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ হবে চূড়ান্ত গণআন্দোলনের ইশারা।”
র্যালি শেষে নেতারা হাজীগঞ্জে শহীদ আজাদ চত্বর উদ্বোধন করেন এবং শাহরাস্তির দোয়াভাঙ্গা ঘুরে চাঁদপুর থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে যাত্রা করেন।
এনসিপির বক্তব্য যতটা রাজনৈতিক, ততটাই প্রতীকীও। ‘জুলাই’ শুধু একটি মাস নয়—এটি হয়ে উঠছে বিচারহীনতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধের প্রতীক। একইসঙ্গে ‘স্বজনপ্রীতি বনাম স্বচ্ছতা’ বিতর্ককে সামনে এনে ড. ইউনূসের উপদেষ্টামণ্ডলীতেও চাপ বাড়াচ্ছে এনসিপি।

