বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

জামায়াতকে পাল্টা কর্মসূচি নয়, ঢাকায় ‘বিজয় মিছিলেই’ শক্তি দেখাবে বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট।।

জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক সোহরাওয়ার্দী সমাবেশ ঘিরে আলোচনার মধ্যে বিএনপি জানিয়ে দিয়েছে—তারা পাল্টা কর্মসূচিতে যাচ্ছে না। দলটি মনে করে, প্রতিপক্ষকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্যেই অবস্থান জানানোর কৌশলই শ্রেয়।

দলটির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, “বিএনপি কোনো প্রতিযোগিতামূলক সমাবেশে যেতে চায় না, কারণ এতে নিজেদের অবস্থান দুর্বল দেখানোর ঝুঁকি থাকে। বরং চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই সরকারবিরোধী বার্তা আরও জোরালো করা হবে।”

বিএনপির লক্ষ্য এখন ৬ আগস্ট ঢাকায় ‘বিজয় মিছিল’-কে স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ জনসমাবেশে রূপ দেওয়া। চলমান ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ দিন হিসেবে এই দিনটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। দলীয় সূত্র বলছে, কর্মসূচিটি শেষ পর্যন্ত ‘মহাসমাবেশে’ রূপ নিতে পারে।

এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলটি আগামী জাতীয় নির্বাচন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করতে চায়। একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিজয় মিছিলের মাধ্যমে ‘জামায়াত বা অন্য কারও’ শো-ডাউন নয়, বরং বিএনপির নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি ও রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে।

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক নিয়ে আবারও রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও এক সময় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র ছিল এই দুই দল, তবে এবার নির্বাচনী জোট হচ্ছে না—এটি প্রায় নিশ্চিত। জামায়াত এখন পিআর ভিত্তিক নির্বাচন দাবিদারদের নিয়ে আলাদা জোট গড়তে চায়, যেখানে বিএনপি নেই।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা জামায়াতের সমাবেশকে গুরুত্বহীন হিসেবেই দেখছেন। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “জামায়াত শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেছে, এটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় স্বাভাবিক। আমরা পাল্টা কিছু করছি না, কারণ প্রতিযোগিতা নয়, নিজেদের পথেই আমরা এগিয়ে চলেছি।”

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আমাদের ধারাবাহিক কর্মসূচি চলছে। বিজয় মিছিল তার চূড়ান্ত প্রকাশ হবে।”

বিএনপির চলমান কর্মসূচিতে রয়েছে পেশাজীবীদের আলোচনা সভা, নারীদের ভূমিকা তুলে ধরার অনুষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক উপস্থাপনাও। ২ আগস্ট আয়োজন করা হবে ‘পথনাটক’, ৪ আগস্ট থাকবে শহীদদের সম্মাননা প্রদান এবং ‘আমার না বলা কথা’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক আয়োজন।

সবশেষ ৬ আগস্টের বিজয় মিছিল ঘিরে হবে মূল সমাবেশ। এটি কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বড় জনসমাগম হবে, তবে চূড়ান্ত রুট ও সময়সূচি এখনো নির্ধারণ হয়নি বলে জানিয়েছেন নেতারা।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন