বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে জামায়াতের সমাবেশের মূল পর্ব শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট।।

দীর্ঘদিন পর রাজধানীর রাজপথে আবারও দৃশ্যমানভাবে সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে হাজির হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ‘আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন’, ‘গণহত্যার বিচার’ এবং ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার ডাক নিয়ে শনিবার দুপুরে ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে দলটির জাতীয় সমাবেশ।

দুপুর ২টার দিকে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের মূল পর্ব শুরু হয়। তার আগে সকাল ৯টা ৪০ মিনিট থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও প্রস্তুতিমূলক আয়োজন। দুপুর ১২টার দিকে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় রাস্তার দুই পাশে অবস্থানরত দলীয় নেতাকর্মীরা স্লোগানে মুখর করে তাকে স্বাগত জানান।

জামায়াত নেতারা বলছেন, স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনসমাগম ঘটানোর লক্ষ্য নিয়েই আয়োজন করা হয়েছে এই জাতীয় সমাবেশ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ যোগ দিয়েছেন। খুলনা, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী, বরিশালসহ প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কর্মী-সমর্থকরা বাস, ট্রেন ও লঞ্চযোগে ঢাকায় এসে জড়ো হয়েছেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘিরে তৈরি হয়েছে জনস্রোত। সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্যানের আশপাশে শত শত বাস সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে, যার বেশিরভাগই রিজার্ভ করা হয়েছে এই সমাবেশের জন্য। নেতাকর্মীদের অনেকেই জামায়াতের লোগো সংবলিত পোশাক পরে, মাথায় ফিতা বেঁধে বা হাতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন।

জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, এ সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য শুধু জনসমাগম নয়, বরং বর্তমান রাজনীতিতে নিজেদের স্পষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা। দলটির নেতারা বলছেন, পিআর (Proportional Representation) ভিত্তিক নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, গণহত্যার বিচার ও ২০২৪ সালের ‘জুলাই অভ্যুত্থানের’ চেতনা বাস্তবায়নই তাদের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।

এছাড়া, দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে একটি ‘ভবিষ্যতমুখী বার্তা’ দেবেন বলেও জানানো হয়েছে। তিনি সমাবেশে জনআকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত থাকছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন জেলার নেতারা এবং ২০২৪ সালের ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ শহীদ ও আহতদের পরিবারবর্গ। পাশাপাশি পিআর পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া কিছু ছোট দল, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের কিছু সদস্যকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপিকে এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানায়নি জামায়াত। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, বিএনপি আনুপাতিক ভোটের বিপক্ষে অবস্থানে থাকায় কৌশলগত কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই সমাবেশ দলটির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের এক ধরনের ঘোষণা। দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন অবস্থানে থাকার পর দলটি এবার মাঠে নিজেদের অস্তিত্ব দৃঢ়ভাবে জানান দিতে চাইছে। বিশেষ করে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো ঐতিহাসিক স্থানে বড় সমাবেশের মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুর দিকে ফেরার বার্তা দিতে চাইছে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন