আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থা (পিআর) বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজকের জাতীয় সমাবেশ আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। এই সমাবেশে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ বলে পরিচিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানালেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপিকে বাদ দিয়েছে দলটি।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “যেসব রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে, তাদেরই আমরা সমাবেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।”
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপিকে বাদ দিয়ে জামায়াত কৌশলগতভাবে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে।
প্রায় ২৪ বছর ধরে একই রাজনৈতিক জোটে থাকা বিএনপি ও জামায়াত ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ আলাদা করে। যদিও মাঝে মাঝে একে অপরের আন্দোলন বা কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়, তবে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের আলাদা অবস্থান তুলে ধরতেই এবার বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানায়নি জামায়াত।
জামায়াতের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, “আমরা এই সমাবেশটি করেছি পিআর ভিত্তিক নির্বাচনের দাবিতে। বিএনপি পিআরের ঘোর বিরোধী, তাই তাদের আমন্ত্রণ জানানো হলে দুই পক্ষই অস্বস্তিতে পড়ত।”
সমাবেশে আমন্ত্রণ পায়নি জামায়াতের সাবেক নেতাদের গড়া দল এবি পার্টিও, যদিও দলটি পিআর ব্যবস্থার পক্ষে। এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু ২০১৯ সালে একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলায় বহিষ্কৃত হন।
জামায়াতের আরেক নেতা জানান, “মঞ্জু জামায়াত ও এর নেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত কথা বলেন, এতে তৃণমূলের ক্ষোভ রয়েছে। যদি তিনি মঞ্চে বক্তব্য দিতেন, কর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারত। তাই ঝুঁকি এড়াতে এবি পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত এখন নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান ও জনসমর্থন যাচাইয়ে বেশি মনোযোগী। পিআর পদ্ধতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে দলটি একদিকে যেমন নতুন জোট বা ঐক্য গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে সীমিত দূরত্বও বজায় রাখছে।
তবে বাস্তবে দুই দলের নেতাকর্মীদের অনেকেই এখনও একে অপরের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন—যা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

