বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
Logo

সোহাগ হত্যা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা: প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে উদ্দেশ্য, টার্গেটে তারেক রহমান?

ডেস্ক রিপোর্ট।।

পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লালচাঁদ ওরফে সোহাগকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার ঘটনায় জাতি স্তম্ভিত। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে গেছে। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর—এবং প্রশ্ন উঠছে, এই ঘটনাকে কি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে?

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যুবদলের স্থানীয় কয়েকজন নেতার নাম উঠে আসায় বিএনপি তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচজনকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে। যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না এ তথ্য জানিয়ে বলেন,

“দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে বিএনপি বা যুবদল কখনো ছাড় দেয় না।”

তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলীয় কাঠামোয় শৃঙ্খলা ফেরানোর প্রচেষ্টা আগেও দেখা গেছে—যেখানে শাস্তির আওতায় এসেছে শত শত নেতাকর্মী।

বহিষ্কার ও দলীয় ব্যবস্থার পরও, হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করার অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে তারেক রহমানকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। একাধিক ইউটিউব চ্যানেল, অনলাইন ব্লগ এবং কথিত সংবাদমাধ্যমে “কনটেন্ট আক্রমণ” শুরু হয়েছে।

একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন,

“ঘটনাটি বর্বর ও নিন্দনীয় হলেও, সেটিকে পুঁজি করে কাউকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা হলে তা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে, তারেক রহমান বর্তমানে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন সময় এই ধরনের প্রচারণা প্রশ্নের জন্ম দেয়।”

রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২০০৬ সালের অক্টোবরের বায়তুল মোকাররমের ঘটনার পুনরাবৃত্তির মতোই এখনকার পরিবেশে বিএনপিকে বিব্রত করতে হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করা হচ্ছে। অতীতে যেমন জামায়াতকে সামনে রেখে বিএনপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল, এবার সেই জায়গায় এসেছে “অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা” বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

একদিকে বাইরে থেকে চলছে আক্রমণ, অন্যদিকে বিএনপির ভেতরে সুযোগসন্ধানী একটি গোষ্ঠীর অস্বস্তিকর তৎপরতাও আলোচনায় এসেছে। এই গোষ্ঠী চায় না তারেক রহমান দেশে ফিরুন এবং দলের হাল ধরুন—এমন অভিযোগ করছে বিএনপির একটি প্রভাবশালী মহল।

কিছু রাজনৈতিক সূত্র বলছে, তারেক রহমানকে রুখতে আন্তর্জাতিক একটি পক্ষও সক্রিয়। ভারতের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ ও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এই সন্দেহকে আরও গভীর করেছে।

সোহাগ হত্যাকাণ্ড একটি ভয়াবহ অপরাধ। দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যেমন প্রয়োজন, তেমনি এই ঘটনার রাজনৈতিক অপব্যবহার রোধ করাও সমান জরুরি। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বিএনপির জন্য এখন পরীক্ষার সময়। আর তারেক রহমানের নেতৃত্বে যখন বিএনপি নতুন করে মাঠে নামছে, তখন এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা ‘প্রোপাগান্ডা ইন্ডাস্ট্রি’ কতটা বাস্তব আর কতটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা সময়ই বলে দেবে।

সম্পাদক :  এম ছাইফুল ইসলাম | কপিরাইট © সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত

প্রিন্ট করুন