মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের সাগাইং এলাকায় একটি বৌদ্ধ মঠে বিমান হামলায় অন্তত ২২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারবিরোধী যোদ্ধারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার (১১ জুলাই) গভীর রাতে সাগাইংয়ের লিন তা লু গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, যে বৌদ্ধ মঠটিতে হামলা চালানো হয়, সেটিতে গৃহহীন অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষজন আশ্রয় নিয়েছিলেন।
স্থানীয় এক সরকারবিরোধী যোদ্ধা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “মঠটিকে সবাই নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে দেখছিল। কিন্তু সেটিতেই হামলা চালানো হয়েছে। এতে ২২ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও অন্তত দুজন।”
তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে শিশু, নারী ও বয়স্করাও রয়েছেন। আহতদের আশেপাশের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “মঠের হলঘর পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। মরদেহগুলো গাড়িতে তোলা হচ্ছিল। আমি অন্তত ২২টি মরদেহ দেখেছি। অনেকের মাথায় আঘাত ছিল, কেউ কেউ শরীরের অংশ হারিয়েছেন।”
মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে সাগাইং অঞ্চল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। জান্তা বাহিনী ও সরকারবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষে বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হচ্ছেন।
চলতি বছরের মার্চ মাসেই একই অঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৩,৮০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। এরপর কিছুদিনের জন্য অঘোষিত যুদ্ধবিরতির গুঞ্জন থাকলেও বাস্তবে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে মে মাসেও সাগাইংয়ের একটি গ্রামে বিমান হামলায় ২০ জন শিক্ষার্থী ও দুই শিক্ষক নিহত হয়েছিলেন।
এদিকে, জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বশেষ হামলার বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

